ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• ভেড়ামারায় অবহেলায় পড়ে আছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স • কালীগঞ্জে ১৪ দিন পর দুই ডাকাত ও দুই ট্রাকসহ মালামাল উদ্ধার • লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের মৃত্যু • কয়রায় মাদ্রাসার ১২ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধের নির্দেশ • সালথায় সাংবাদিকদের সাথে যুবদলের মতবিনিময় সভা • সুজানগরের মেধাবী শিক্ষার্থী রোমানের স্বপ্ন থামল সড়কে, শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা • দোহারে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা • আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতার • সুজানগরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত • আগৈলঝাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতার


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » কয়রায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

কয়রায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান


তারিক লিটু,কয়রা ( খুলনা )
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫


কয়রায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

খুলনা: সুন্দরবনঘেষা উপজেলা কয়রার শত শত শিশু প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়ে। শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছে ফাটল ধরা দেয়াল ও খসে পড়া ছাদের নিচে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির ভবন এতটাই জরাজীর্ণ যে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তবু বিকল্প না থাকায় প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীকে এসব ভবনেই পাঠ নিতে হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বিমে বড় বড় ফাটল, আবার কোথাও ভাঙা দরজা–জানালা। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় মেঝে ভিজে থাকে, ক্লাস নিতে হয় ভিজা পরিবেশে। শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের শঙ্কা, সামান্য ভূমিকম্প বা প্রবল বর্ষণে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে ভবনগুলো।

অবকাঠামোর সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বাদ দিয়ে পাঠদানের কোনো সুযোগ নেই। কোথাও কোথাও অস্থায়ী টিনশেড তুলে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, তবে সেগুলোও অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ। বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশে নেই সীমানাপ্রাচীর, নেই উপযুক্ত খেলার মাঠ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ কিংবা শিক্ষাসামগ্রী।

অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পূর্ব চৌকুণি, বাঁশখালী, কয়রা মদিনাবাদ মডেল, নাকশা, ইসলামপুর, জোড়শিং, মদিনাবাদ মধ্যপাড়া, মহেশ্বরীপুর শেখপাড়া, মালিখালী ও শহিদ এম গফুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও অন্তত ৩০টি। এসব বিদ্যালয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে।এছাড়া আটরা সপ্রাবি, উত্তর কালিকাপুর সপ্রাবি, কয়রা উত্তর চক এবং সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় বর্ষার সময় শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

কয়রা মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদ সরোয়ার বলেন, “ভালো ভবন না থাকায় অভিভাবকেরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে অনীহা দেখাচ্ছেন। অনুপস্থিতি বাড়ছে। জরুরি সংস্কার ছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।”

দক্ষিণ বেদকাশীর সুন্দরবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো পাকা ভবন নেই। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ভাঙা টিনসেড ঘরে ক্লাস নিতে হচ্ছে। সুন্দরবন থেকে গরান কাঠ সংগ্রহ করে বেড়া দিয়ে তার ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। ফলে গরমে বাচ্চারা খুব কষ্ট পায়।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ এখন সবচেয়ে জরুরি। এর মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শেড দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, কয়রার শিক্ষার মান ধরে রাখতে হলে অবিলম্বে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। অন্যথায় বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়বে শিশুরা, বাড়বে ঝরে পড়ার সংখ্যা।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৫:০০   ২০১ বার পঠিত  | ●   ●   ●







খুলনা থেকে আরও...


● ভেড়ামারায় অবহেলায় পড়ে আছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স
● কয়রায় মাদ্রাসার ১২ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধের নির্দেশ
● ভেড়ামারায় অবৈধ ইটভাটার কিলন-চিমনি গুঁড়িয়ে কার্যক্রম বন্ধ
● সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার ৫ জেলে
● ঘুষ দাবির প্রতিবাদে থানায় মারধরের অভিযোগ এএসআইয়ের বিরুদ্ধে



আর্কাইভ