ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
আওয়ামী লীগ শাসনামলে দমন পীড়নেও জামায়াতে ইসলামী স্বৈরাচারের সঙ্গে রাতে আপস করে দিনে রাজপথে লোক দেখানো আন্দোলন করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এই সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত।
তিনি বলেন, ১১ জন শীর্ষ নেতাসহ এক হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের পরও জামায়াত কারও সঙ্গে তলে তলে রাতের বেলা আপস করেনি। দিনের বেলায় কারো পারমিশন নিয়ে রাস্তা নামেনি। পারমিশনের তোয়াক্কাও করিনি। যেটুকু সামর্থ্য ছিল তাই নিয়ে স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ করে জামায়াত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু থেকেই আন্দোলনে জামায়াতের পূর্ণ সমর্থন ছিল। তবে বিগত সরকার যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হয় মরতে হবে নয়তো বাঁচার মতো বাঁচতে হবে। কোনো কোনো দলের শীর্ষ নেতারা সে সময় বলেছিলেন, আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একই দিনে জামায়াত দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে তরুণ সমাজের পাশে দাঁড়াতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
তরুণ সমাজের নেতৃত্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পরে আজ পর্যন্ত জামায়াত কৃতিত্ব চায়নি দাবি করে দলটির আমির বলেন, জামায়াতের এতজন শহীদ হয়েছে, দলের কেউ আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ছিল এ কথা জামায়াত বলেনি।
জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে একদল লোক চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এই দলের শীর্ষস্থানীয় দুজন নেতার সঙ্গে জামায়াত আলোচনায় বসেছিল। চাঁদাবাজি থামাতে তাদের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু জামায়াতের কথা তাদের ভালো লাগেনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছেন। জুলাইয়ের চেতনা ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ। সেই চেতনায় জামায়াত পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে জুলাইয়ের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আপসহীন ভূমিকা রেখে আসছে। জুলাই চেতনা থেকে সরে আসতে আপসের যত প্রস্তাব এসেছে, জামায়াত তা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। বরাবরই জবাব দিয়েছি, আপনারা গণভোটের পক্ষে কথা বলে আজ অস্বীকার করছেন, আমরা গণভোটের পক্ষে কথা বলে আজও স্বীকার করছি, আগামীতেও করব। রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যাব না।
জামায়াত আমির বলেন, সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ চলছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয় লোকজন নিয়োগ দিয়ে দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে। এ সরকার পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের পথে হাঁটলে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যে দেশে জালিম শাসক, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে শিশুরা পর্যন্ত জীবন উৎসর্গ করে, সেই দেশে শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না।
শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি বলেন, গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনাল সংখ্যা ও জনবল বৃদ্ধি করতে হবে।
রাষ্ট্রচিন্তক দিলারা চৌধুরী বলেন, বিএনপি যদি জুলাই চেতনা ধারণ করতে পারে, তবে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারবে।
বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদের সভাপতি আহত জুলাই যোদ্ধা নেছার উদ্দিন নাঈম বলেন, গুলির যন্ত্রণার চেয়ে বেশি ব্যথা লাগে যখন সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলে, নির্বাচনের জন্য সংস্কারের পক্ষে বিএনপি মত দিয়েছে কথা বলেছে।
চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা মো. রাকিব বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও আমরা নিজেরাই বৈষম্যের শিকার।
মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক সচিব মাহবুবুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ পারভেজ মিয়ার মা কানিজ ফাতেমা, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম, শহীদ সৈয়দ মুনতাসির রহমান আলিফের বাবা সৈয়দ গাজী উর রহমান, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মো. মোশাররফ হোসেন, শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে ডা. সাইফ আহমেদসহ অনেকেই এতে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৬:৫৫ ৬৯ বার পঠিত | ● বিরোধীদলীয় নেতা