ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নেত্রকোনা: দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে চারটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমেশ্বরী, মহাদেও ও গণেশ্বরী নদীর ওপর প্রস্তাবিত চার সেতুর নির্মাণস্থল ও আশপাশের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাসুম সারওয়ারসহ কর্মকর্তারা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দার মহাদেও ও গণেশ্বরী নদীর ওপর প্রস্তাবিত দুটি সেতুর স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরে বিকেলে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর ওপর প্রস্তাবিত দুটি সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্য স্থান, আশপাশের যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক মাসুম সারওয়ার বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার চারটি সেতুর স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। সরেজমিনে পাওয়া তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মহাদেও ও গণেশ্বরী নদীর ওপর সেতু দুটি নির্মাণ হলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত সড়কের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ৭০ শতাংশের বেশি অর্থায়ন করবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় চারটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ৪৪১ কোটি ২ লাখ ও ১ হাজার ৪৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কলমাকান্দার মহাদেও নদীর ওপর সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং গণেশ্বরী নদীর ওপর সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় ৪২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রচেষ্টায় চার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে। গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় চারটি সেতু অনুমোদনের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে বলেন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দার প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী সাফায়াত, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম তুহিন, বিজয়, জেলা প্রকৌশলী ইলিয়াস, কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল, উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, রংছাতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রুকন পাঠান, লেংগুরা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মিলনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক হারেজ গনিসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, চারটি সেতু নির্মাণ হলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফসল, সাদামাটি, কয়লা, নদীর লাল বালু ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতেরও প্রসার ঘটবে।
তাদের মতে, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মিত হলে পর্যটনকেন্দ্রিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি কলমাকান্দার মহাদেও ও গণেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কমবে। চার সেতু বাস্তবায়িত হলে দুই উপজেলার স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন তারা।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৬:০১ ২ বার পঠিত |