ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে একশত গজের মধ্যে অবস্থিত আহমেদ প্রাইভেট ক্লিনিক নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান (অস্ত্রোপচার) করার পর রাকিবা আক্তার (২২)নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (০৫/০৪)মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজনদের দাবি অদক্ষ ডাক্তার দিয়ে সিজার করতে গিয়ে তাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে তারা।
এতে বিক্ষুব্ধ রোগের স্বজনরা হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। এ ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রবিবার (০৫/০৪)ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করেছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত প্রসূতির নাম রাকিবা আক্তার (২২) স্বামী প্রবাসী শফিকুল ইসলাম, বাড়ি নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে।এই ঘটনায় প্রশাসন ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জানা যায়,শনিবার মধ্যরাতে ১২-৩০মনিট প্রসব ব্যাথা উঠলে রাকিবা আক্তারকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই আনুমানিক রাত -২ টা ৩০ মিনিট রাকিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। নবজাতক ছেলে শিশুটি বর্তমানে স্বজনদের কাছে সুস্থ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্টভাবে না জানিয়ে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে অন্যত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। রাকিবার মা রেহেনা আক্তার বলেন, মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি, তার কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই বুঝতে পারি, অপারেশনের পরই তার মৃত্যু হয়েছে। আমার মেয়ের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। গর্ভবতীর মায়ের যে ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চেকআপ করা প্রয়োজন সবগুলি করা হয়েছে সেইসব রিপোর্টগুলিতে মেয়ে ও মেয়ের বাচ্চা সম্পূর্ণটা স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদক্ষ ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করিয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দ্রুত সরে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা রাতে ও রবিবার সকসলে দুই দফা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।খবর পেয়ে নবীনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তার মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি । খুদে বার্তা পাঠালেও কোন জবাব দেননি।
তবে প্রতিষ্ঠানের শাহাদাত হোসেন নামে একজন কর্মচারীর সাথে এ প্রতিনিধির কথা হয় তিনি বলেন, এই ঘটনার পর রাতেও স্বজনরা হাসপাতালে হামলা চালায়। সকালে একজনের মধ্যস্থত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ মৃতের স্বজনরা হাসপাতালের ইসিজি রুম ও চিকিৎসকদের কক্ষসহ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কান্তি নাথ বলেন,“অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ অদক্ষ ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই মৃত্যু ঘটে। হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর তারা পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে নবীনগর সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের জেলা এবং বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি, তাদের নির্দেশে,এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে যৌথ সভায় উক্ত ঘটনা নবীনগর সরকারি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক গাইনি কনসালট্যান্ট ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন কে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে হাসপাতালে স্থাপনের বিষয়টি বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৫:০৪ ৩১৫ বার পঠিত | ● নবীনগর ● ভাঙচুর ● হাসপাতাল.