ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » দোহারে ভুমিদস্যু ও বালু ব্যবসায়ী আটক

দোহারে ভুমিদস্যু ও বালু ব্যবসায়ী আটক


স্টাফ রিপোর্টার,( দোহার )
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


 দোহারে ভুমিদস্যু ও বালু ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর গোড়াবন এলাকা থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও ভূমিদস্যু শরিয়ত উল্লাহ বেপারীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ।
আটককৃত শরিয়ত উল্লাহ দোহার উপজেলার গোড়াবন পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন,কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে ইট ভাটায় বিক্রয়কারী সিন্ডিকেটের অন্যতম। উপজেলা প্রশাসনের সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে দোহার উপজেলা সীমান্ত পদ্মা নদী থেকে রাতের আঁধারে বালু লুটের মহোৎসবের অন্যতম। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট যাদের রয়েছে প্রশাসনের সাথে গভীর সখ্যতা।এমন ঘটনা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় জানতে পেরে হতভম্ব। রোববার সভার তাৎক্ষনিক নির্দেশে রাত আনুমানিক সারে নয়টার দিকে শরীয়তউল্লাহকে দোহার থানা পুলিশ আটক করেন।
জানা যায়, উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ডাকবাংলোর মোড়ে সড়কের পাড় ঘেষে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলে অবৈধভাবে বালু বিক্রির মহাউৎসব। এই বালুখেকোদের হাত থেকে দোহারকে রক্ষায় স্থানীয় এমপি’র সহযোগীতা কামনা করছেন এই অঞ্চলের বসবাসকারী অসহায় জনসাধারণ।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও একাধিক সুত্রে জানা যায়, দোহারের পদ্মা নদীর সিমান্তে প্রতিদিনই রাত ১২টার পর পদ্মা নদীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রির মহাতান্ডব চালায়।সরাসরি নদী থেকে বালু উত্তোলন করে প্রথমে নৌকা বোঝাই করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর তীর ও তীর সংলগ্ন জায়গায় স্তুপ করে রাখে। পরবর্তীতে সেখান থেকে লোড-আনলোড মেশিন বসিয়ে তা পাইপের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তা সরবরাহ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার অভিযান চালানো হলে খবর পেয়ে মুল অপরাধীরা পালিয়ে যায়।অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নৌকাসহ শ্রমিকদের আটক করলেও বালু খেকো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বালুুখেকোরা সিন্ডিকেট তৈরি করে সাংবাদিক ও পুলিশের নাম ভাংগিয়ে প্রতিফুট অবৈধ বালু থেকে নির্দিষ্টহারে চাঁদা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে নারিশা পশ্চিমচর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলিল সবুজ বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত পদ্মা নদী থেকে অর্ধ শতাধিক নৌকা বোঝাই করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করে এই বালুখেকো সিন্ডিকেট। আর এতে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব অন্যদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এসব বালু ব্যবসায়ীরা। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রসাশন জোরালো কোন পদক্ষেপ নেয়না।
এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।শীঘ্রই অবৈধ বালু উত্তোলনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান,আটক শরীয়ত উল্লাহ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দাপটের সাথে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, কৃষি জমির মাটি, জমি দখল, বিচার বৈঠকের নামে উৎকোচ বানিজ্যসহ অবৈধ ইটের ভাটার ব্যবসা করতেন। তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি আরও বলেন, শরিয়ত উল্লাহ গত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মুকসুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আ. হান্নানের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সময়ে সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি ও জমাজমি বিচার বৈঠকের নামে অর্থকরী কামিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও তাকে আটকের পরে অনেকেই বলছেন তিনি গত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বালু ব্যবসার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দোহারের এই ব্যবসাটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার ভয়ে কেউ অত্যাচারের স্বীকার হলেও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৯:৩২   ৫৪ বার পঠিত  |         

----





ঢাকা থেকে আরও...


নগরকান্দার ইউএনওর বদলির গুঞ্জনে হতাশ সাধারন মানুষ
দোহারে গ্রাম আদালতের কর্মশালা
আড়াইহাজারে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ গ্রেপ্তার ২
স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার,নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
আলফাডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী ক্ষুরধার যুক্তি, চ্যাম্পিয়ন আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়



আর্কাইভ