ঢাকা    রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
শিরোনাম
দুমকিতে পিলারের লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারকরা, মাদ্রাসা শিক্ষকের আত্মহত্যা ভেড়ামারা রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্ম যেন বাজার, অবৈধ দোকানে চরম যাত্রী দুর্ভোগ ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতা ও জেলেদের টাকায় পরিবহন খরচ মেটালেন চেয়ারম্যান নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেয়নি বিএনপিসহ ২৩টি দল দোহারে কর আদায়ের ওপর তাগিদ দেন বিভাগীয় কমিশনার ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হলেন শামসের উদ্দিন ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন এমপি সেলিম রেজা হাবিব আগৈলঝাড়ার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় নির্বাচিত বাউফলে শিক্ষা কর্মকর্তার সহমর্মিতায় আবেগাপ্লুত শিক্ষক-শিক্ষার্থী হাতিয়ায় ব্যাবসায়ীকে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রাজশাহী » বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা

বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা


গোলাম কিবরিয়া (রাজশাহী)
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা
রাজশাহী: নাম গণেশ চন্দ্র সেন ।বাড়ী রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় । রাজশাহী শহরে এসে ঘুরে , ঘুরে , বাশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন, জিবিকা ।হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো কাঁধে ঝোলা ব্যাগ আর মুখে বিভিন্ন গানের সুরেলা সুরে বাঁশি বাজিয়ে ৩৫ বছর পার করেছেন তিনি। কীভাবে বাঁশি বাজাতে হয় তা আবার ক্রেতাকে শিখিয়ে দেন। পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি, বিচ্ছেদ ও পুরোনো বাংলা সিনেমার গানের সুরও তুলতে পারেন। আবার নিজেও তৈরি করেন গান, সুর-তালও দেন। বাঁশির প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাকে এই পেশা থেকে কখনোই আলাদা করতে পারেনি। তাই ব্যক্তি জীবনের উত্থান পতনে বাঁশি বিক্রিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

কখন ও রাজশাহী শহরে , কখনও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে , বাঁশি বিক্রির জন্য ঘুরে বেড়ান গনেশ চন্দ্র দাস । ৩৫ বছর যাবৎ এই রাজশাহী শহরে বাঁশি বিক্রি করেন তিনি। যা দিয়েই কোনো রকম চলছে তার সংসার। ইচ্ছে ছিল কোনো একটা চ্যানেলে গান করার। আমৃত্যু সুর ধরে রাখতে চেয়েছিলেন সুর সঙ্গীতের ঐতিহ্য। তবে মূল্যায়িত হয়নি তার প্রতিভা। কেউ তার প্রতিভার মূল্যায়নে এগিয়ে আসেনি। তাইতো অভিমানে বারবার ছেড়ে দিতে চেয়েছেন এই পেশা। কিন্তু ভালো লাগা ও আবেগের কাছে হার মানে সকল অভিমান।

গনেশ চন্দ্র দাস রাজশাহী নগরীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। তিন ছেলেই বিবাহিত। তবে ১৫ বছর আগে চিকিৎসার অভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার একমাত্র মেয়ে। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি তার। তারপরও নিজের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জীবিকার খোঁজে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি গনেশ চন্দ্র।

তার সাদামাটা জীবনে নেই কোনো বিলাসিতা। দু’বেলা দুমুঠো ভাতই ছিল তার জীবন যুদ্ধ। আবার কখনো অর্ধাহারে কাটিয়ে দেন তিনি। জীবিকার তাগিদে অন্য ১০ জনের মতোই ছুটতে হয় তাকেও। সকল দুঃখ কষ্ট হাসি মুখে বরণ করার এক বিষ্ময়কর শক্তি নিয়েই যেন পৃথিবীতে নিরন্তর ছুটে চলা পরিশ্রমী এই মানুষটির।

জীবন যুদ্ধে লড়াকু এই মানুষটির সাথে কথা হয়, আলাপকালে নিজের একান্ত সুখ দুঃখের অব্যক্ত গল্পগুলো শোনালেন হাসিমুখেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা বাঁশি ভর্তি একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছুটে চলেন । সকালের পাখি ডাকা ভোর আর সূর্য গড়িয়ে সন্ধ্যা, সারাদিনই বিচরণ ঘটে রাজশাহী শহরে ।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫২:৩১   ৮ বার পঠিত  |   







রাজশাহী থেকে আরও...


ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন এমপি সেলিম রেজা হাবিব
ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু
বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা
রাবিতে নতুন দুই সহ-উপাচার্য নিয়োগ
সুজানগরে দিনের আলোয় দুই মোবাইলের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি



আর্কাইভ