ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• আশুলিয়ায় আগুনে পুড়ল ১০ গোডাউন, আড়াই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে • হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মিলল তরুণীর লাশ, স্বামীসহ আটক ৩ • যুক্তরাজ্যের সৈকতে শত শত নীল সামুদ্রিক প্রাণী, জেলিফিশ ভেবে ভুল করছেন অনেকে • প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট • জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি, ফ্যাসিবাদ ফিরলে নিতে হবে দায় • রাতে নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাবো’ স্ট্যাটাস,সকালে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ • মেয়াদপূর্তির আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনল সরকার • মানসিক সুস্থতাকে স্বাস্থ্যনীতিতে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী • রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি জনগণের স্বার্থবিরোধী: রিজভী • ভবন সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলছে সাহরাইল ডাকঘর


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রাজশাহী » বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা

বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা


গোলাম কিবরিয়া (রাজশাহী)
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


বাঁশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা
রাজশাহী: নাম গণেশ চন্দ্র সেন ।বাড়ী রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় । রাজশাহী শহরে এসে ঘুরে , ঘুরে , বাশি বিক্রি করেই চলে তার জীবন, জিবিকা ।হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো কাঁধে ঝোলা ব্যাগ আর মুখে বিভিন্ন গানের সুরেলা সুরে বাঁশি বাজিয়ে ৩৫ বছর পার করেছেন তিনি। কীভাবে বাঁশি বাজাতে হয় তা আবার ক্রেতাকে শিখিয়ে দেন। পল্লিগীতি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি, বিচ্ছেদ ও পুরোনো বাংলা সিনেমার গানের সুরও তুলতে পারেন। আবার নিজেও তৈরি করেন গান, সুর-তালও দেন। বাঁশির প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাকে এই পেশা থেকে কখনোই আলাদা করতে পারেনি। তাই ব্যক্তি জীবনের উত্থান পতনে বাঁশি বিক্রিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

কখন ও রাজশাহী শহরে , কখনও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে , বাঁশি বিক্রির জন্য ঘুরে বেড়ান গনেশ চন্দ্র দাস । ৩৫ বছর যাবৎ এই রাজশাহী শহরে বাঁশি বিক্রি করেন তিনি। যা দিয়েই কোনো রকম চলছে তার সংসার। ইচ্ছে ছিল কোনো একটা চ্যানেলে গান করার। আমৃত্যু সুর ধরে রাখতে চেয়েছিলেন সুর সঙ্গীতের ঐতিহ্য। তবে মূল্যায়িত হয়নি তার প্রতিভা। কেউ তার প্রতিভার মূল্যায়নে এগিয়ে আসেনি। তাইতো অভিমানে বারবার ছেড়ে দিতে চেয়েছেন এই পেশা। কিন্তু ভালো লাগা ও আবেগের কাছে হার মানে সকল অভিমান।

গনেশ চন্দ্র দাস রাজশাহী নগরীর পুঠিয়া উপজেলার কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। তিন ছেলেই বিবাহিত। তবে ১৫ বছর আগে চিকিৎসার অভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার একমাত্র মেয়ে। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি তার। তারপরও নিজের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জীবিকার খোঁজে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি গনেশ চন্দ্র।

তার সাদামাটা জীবনে নেই কোনো বিলাসিতা। দু’বেলা দুমুঠো ভাতই ছিল তার জীবন যুদ্ধ। আবার কখনো অর্ধাহারে কাটিয়ে দেন তিনি। জীবিকার তাগিদে অন্য ১০ জনের মতোই ছুটতে হয় তাকেও। সকল দুঃখ কষ্ট হাসি মুখে বরণ করার এক বিষ্ময়কর শক্তি নিয়েই যেন পৃথিবীতে নিরন্তর ছুটে চলা পরিশ্রমী এই মানুষটির।

জীবন যুদ্ধে লড়াকু এই মানুষটির সাথে কথা হয়, আলাপকালে নিজের একান্ত সুখ দুঃখের অব্যক্ত গল্পগুলো শোনালেন হাসিমুখেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা বাঁশি ভর্তি একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছুটে চলেন । সকালের পাখি ডাকা ভোর আর সূর্য গড়িয়ে সন্ধ্যা, সারাদিনই বিচরণ ঘটে রাজশাহী শহরে ।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫২:৩১   ১০৯ বার পঠিত  | ●   ●







রাজশাহী থেকে আরও...


● চাটমোহরে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রস্তুতি সভা
● চাটমোহরে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ
● সুজানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নতুন নেতৃত্বে স্বপন ও জয়ন্ত
● নিখোঁজের পর হলুদের ক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার
● মাস্টার প্ল্যান মেনে ভবন নির্মাণে গুরুত্ব দিলেন বিভাগীয় কমিশনার



আর্কাইভ