ঢাকা সোমবার, ১ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা গ্রামে চাঞ্চল্যকর আবু কালাম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ মে সকাল ১০টায় স্থানীয় পেশকার হাট বাজারে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে নিহত কালামের ছোট ভাই এবং ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহসিন আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যের শুরুতে মহসিন মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে কসম আল্লাহর, ওই (অভিযুক্ত) ফ্যামিলি থেকে কেউ আমাকে এক মিনিটের জন্যও ফোন দেয়নি বা বিষয়টি জানায়নি। আমার ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পরই কেবল বিষয়টি জানাজানি হয়। আমার ভাইকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজিয়েছে। আমার পার্শ্ববর্তী ভাইয়ের ঘরের কাউকে বা আমাদের পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি। তারা সব গোপন করেছে। ২৭ তারিখে দুপুরে বা দুপুরের পরে নাকি সে বিষপান করেছে, হত্যাকারীরা বলে। তাহলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো না কেন? সন্ধ্যা ৭/৮ টার দিকে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়েছে। সেখান থেকে আমরা ২৮ তারিখে জানতে পারি লোক মারফত আমার ভাই মারা গেছেন। এটা হত্যাকাণ্ড। বিষপান নয়।
বক্তব্যে মহসিন মেম্বার তিনি জানান, আমার ভাইয়ের স্ত্রী রুমা, বড় মেয়ে শিলা, বড় ছেলে, ভাইয়ের শ্বশুর আবদুল কাদের পাটারি, এছাড়া আরো লোক আমার ভাই আবু কালাম হত্যার সাথে জড়িত রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) সঠিক রিপোর্ট এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে মামলা ও আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে মহসিন মেম্বার বলেন, “আমার বাবা আজ থেকে ১৫ বছর আগে এবং মা ১১ বছর আগে মারা গেছেন। আমরা দীর্ঘ বছর ধরে এই এলাকার মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। ২০২০ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে এই ৭ নং ওয়ার্ডের মা-বোন ও সাধারণ মানুষের বিপুল ভোটে আমি মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আজীবন মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেছি, কখনো কারও ক্ষতি করিনি।”
তিনি আরও করেন, “আমার বাবা একজন আলেম ছিলেন। বাবার আদর্শ মেনে আমি আমার বড় ভাইকেও (নিহত কালাম) সবসময় বলতাম মানুষের কোনো ক্ষতি করা যাবে না, মানুষের অভিশাপ বড় অভিশাপ। অথচ আজ আমার নিরীহ ভাইকে অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হলো।”
মানববন্ধনে উপস্থিত গাইমারা গ্রামের শত শত সাধারণ মানুষ ও নিহতের স্বজনরা খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। বক্তারা অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:২২:৪১ ৩ বার পঠিত | ● দাবি ● বিচার ● মানববন্ধন ● লালমোহন ● হত্যা
----