ঢাকা বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: কাউখালীতে দিন দিন মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহল। উপজেলা পরিষদের একাধিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ধ্যা নদীর তীরে অবস্থিত খাদ্যগুদাম এলাকা, আমরাজুড়ি ফেরিঘাট ও ইটভাটার আশপাশ, কেউন্দিয়া স্কুলের পেছনের এলাকা, সাহাপুরা, কাউখালী সদরের ইকোপার্ক সংলগ্ন নদীর পাড়, চড়বাঁশুরী, গান্ডতা, কুমিয়ান, কচুয়াকাঠি, চিরাপাড়া, বাঁশুরী, বিভিন্ন গুচ্ছগ্রাম, বেকুটিয়া পুরাতন ফেরিঘাট ও সেতুর নিচের এলাকা, মেঘপাল বাজার, হরিণধারা, গোপালপুর, রোঙ্গাকাটি, হোগলা বেতকা বাজার, কঁচা নদীর তীরবর্তী বাদামতলা এলাকা,নিলতী, তালুকদারহাট বাজার এবং শিয়ালকাঠি মোল্লাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান।বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া কাউখালী সরকারি খাদ্যগুদাম এলাকা ও আবহাওয়া অফিসের পুকুরপাড় মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, মাদকসেবীদের অনেকেই দুর্বৃত্ত প্রকৃতির হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে তাদের পরিচয় সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় আমরা বারবার মাদকের বিষয়টি তুলে ধরেছি। এরপরও মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলতে দেখা যায়। কয়েক দফা মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর পুলিশের তৎপরতা কিছুটা বেড়েছে।
শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, উঠতি বয়সের যুবকরা দলবেঁধে বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন ও মোবাইল জুয়ার আসর বসাচ্ছে। ইউনিয়নের একদিকে ভান্ডারিয়া ও রাজাপুর উপজেলার সীমানা এবং অন্যদিকে বেকুটিয়া সেতু থাকায় বহিরাগত কিছু মাদক ব্যবসায়ী স্থানীয়দের মাধ্যমে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে।
চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বলেন, “আমাদের ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলাজুড়ে এখন মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা সভায় বারবার আলোচনা হলেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তারপরও মাদকসেবন ও বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। তাদের মতে, মাদকের কারণে চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কাউখালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ এবাদ আলী বলেন, “মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর স্যার আমাদের মাদক নির্মূলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নিয়মিত অভিযান, মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।তিনি মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সকল সচেতন নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৬:৩৩ ৮ বার পঠিত | ● কাউখালী ● বিস্তার ● ভয়াল ● মাদক
----