ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » খাল খননে কেটে গেল ৩ গ্রামের জলাবদ্ধতা

খাল খননে কেটে গেল ৩ গ্রামের জলাবদ্ধতা


উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


 খাল খননে কেটে গেল ৩ গ্রামের জলাবদ্ধতা

কুড়িগ্রাম: ভুতানীর বিলে জীবনে আবাদ করবার পাই নাই। খালটা খনন করায় এবার জলাবদ্ধতা নাাই, আমনের আবাদ করবার পামো। মাছও খাবার পামো। এতদিনে আল্লাহ হামার প্রতি রহমত করছে। বিলে ৫ বিঘা বাপের জমি পাইছি হাতে কোন দিন আবাদ করবার পাই নাই। আবাদেও সব প্রস্তুতি নিছি। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন ডারার পাড় গ্রামের কৃষক মো. তোফাজ্জল হোসেন(৬৫)।

একই গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া (৮০)বলেন,কারবালার বিলে আমার ৪ একর জমি জলাবদ্ধতায় প্রায় সারা বছর ধরি পানিতে ডুবি থাকত। কোন রকমে বোরো চাষ করি। কিন্ত আমন চাষ করতে পারি নাই। খালটা খনন করায় এবার আমন চাষ করতে পারব। সংসারে বাড়তি আয় হবে সে আশায় বুক বেধেছেন তিনি। শুধু তোফাজ্জল ও বাদশা মিয়া নন,খয়বর আলী ও হোসেন আলী সহ শতাধিক কৃষক কারবালার বিল,ভুতানীর বিল ও সুরির ডারা বিলের জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমি আমন আবাদ করতে পারতো না। পতিত পড়ে থাকত। খালটা খনন ও সংস্কার করায় এলাকার কৃষির চিত্র পাল্টে গেছে। প্রান ফিরে পেয়েছে বিলের জমি ও স্থানীয় কৃষি, মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র। সে আশায় কৃষকদের মুখে ফুঠে উঠেছে আনন্দের হাসি।
উলিপুর পৌরসভার আব্দুল হাকিম মৌজার ডারার পাড় গ্রামের বুক চিড়ে সুরির ডারার বিল হয়ে বুড়ি তিস্তায় মিলিত হয়েছে এ খালটি। প্রায় এক যুগ ধরে মৃত প্রায় কারবালার খালটি বিলিন হওয়ার পথে। ফলে বৃষ্টি হলেই পানি খাল উপচে কারবালার বিল, ভুতানীর বিল ও সুরির ডারার বিল সহ মধ্য পাড়া, সরদার পাড়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। পতিত থাকত ৩টি বিলের শত একর জমি। কিন্ত সম্প্রতি সরকারের খাল খনন কর্মসুচীর আওতায় প্রায় ৩ কিলো মিটার এ খালটি খনন করায় এবার জলাবদ্ধতা থেকে মুিক্ত পেয়েছে এলাকার মানুষ। খনন করায় খালটি যেন নুতন জীবন ফিরে পেয়েছে। বিলের জমিতে আমন আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে নুতন করে কর্ম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খালের দুপারে সারি সারি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। প্রকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে।
জানা যায়, বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসুচীর আওতায়, ”অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচীর(ইজিপিপি)” অধিনে” ধামশ্রেনী ইউনিয়নের এমপির মোড় হতে বুড়ি তিস্তা পর্যন্ত খান পুর্নঃ খনন” সাড়ে ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল পুর্নঃ খনন করা হয়েছে। গত ১০ মে কাজের শুরু হয় এবং ৩০ জুন খাল খনন কাজের সমাপ্তি হয়েছে। সংস্কার কাজে উপকারভোগির সংখ্যা ১১৯ জন হতদরিদ্র মানুষ। উপকার ভোগির মজুরী(ওয়েজ)সাড়ে ২৫ লাখ টাকা। ও (নন ওয়েজ কষ্ট) ভেকু দিয়ে মাটি কাটা বাবদ ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. রন্জু মিয়া ইউপি সদস্য,বলেন,যথা সময়ে খাল খননের কাজ শুরু ও শেষ করা হয়েছে। দুই পারের সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো ও পার মোরামতের কাজ চলছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার ফিজানুর রহমান বলেন, খালটি মাটি ভরাট হয়ে পানি নিস্কাশন বন্ধ ছিল। ফলে বিল গুলো ও আশ পাশের গ্রাম গুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দিত। কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হত। খালটি খনন করায় পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, দীর্ঘদিন খাল টি মাটি ভরাট হয়ে ছিল। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হতো। শুকনো মৌসুমে খাল পানি শুন্য থাকত। খাল খনন করায় এখন জলাবদ্ধতা হবে না। খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারবে। সৌন্দয বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় খালের দুই পারে গাছ লাগানো হচ্ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০০:১০   ৭ বার পঠিত  |      







রংপুর থেকে আরও...


খাল খননে কেটে গেল ৩ গ্রামের জলাবদ্ধতা
পীরগঞ্জে বন বিভাগের বিরুদ্ধে কৃষিজমিতে বনায়নের অভিযোগ
পীরগঞ্জের বাতিঘর মোস্তফা আলমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিক পালিত
ডিমলায় ভাড়া বাসা থেকে তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
পীরগঞ্জে ১৭ টি ইয়াবাসহ যুবক আটক



আর্কাইভ