ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » খাল খনন শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

খাল খনন শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও


জাকির হোসেন,আমতলী (বরগুনা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


 খাল খনন শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

বরগুনা: সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় ও স্বচ্ছ ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি। সরকারি অর্থ ব্যয়ে এমন নজির স্থাপন কওে আমতলী বাসীর নিকট তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমতলী উপজেলার দুই ইউনিয়নে খাল দুটির পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় গত মে মাসে কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৪ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। দুই প্রকল্পে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৫ টাকা।
গত ২ মে ২০২৬ দুই খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় কেওয়াবুনিয়া খালের প্রায় তিন কিলোমিটার এবং পশুরবুনিয়া খালের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়। খাল দুটি স্থানীয় শ্রমিক ও ভেক্যুর সাহায্যে খনন করা হয়। দুটি খালের প্রায় চার কিলোমিটার খনন শেষে অব্যয়িত ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা গত ৮ আগস্ট ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।
আমতলী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, কুকুয়া ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, মিতব্যয়িতা ও জবাবদিহির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থান করেছেন আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন উদ্যোগ অন্য সরকারি প্রকল্পেও একই ধরনের স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা অনুসরণের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আমি মনে করি।
বরগুনার টিআইবির সংগঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ এই ধারণাকে প্রশাসনিক কর্মকা-ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত অর্থ আমতলীর ইউএনও সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ায় তার উপর মানুষের অস্থা অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কাজ শেষে অব্যয়িত টাকা এভাবে ফেরত দেওয়ায় হলে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় আস্থা বাড়ে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি জোরদার হয়।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কেওয়া বুনয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া প্রায় চার কিলোমিটার খাল খনন শেষে অব্যিয়িত ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা ইউএনও মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী স্যারের নির্দেশে সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
আমতলীর ইউএনও মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে পরবর্তী সময়ে এই অর্থ সরকারের অন্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৩:০৩   ৩৬ বার পঠিত  |   







বরিশাল থেকে আরও...


খাল খনন শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫০৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
বৈরী আবহাওয়ার কবলে উপকূলের জেলেরা
কাঁঠালিয়ায় অটোরিকশার গ্যারেজ দখলের চেষ্টা
কুয়াকাটায় জেলেদের জালে বিরল বক্স ক্রাব উদ্ধার
উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, পায়রাসহ ৪ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা



আর্কাইভ