ঢাকা    বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
পীরগঞ্জে পেয়াজ চাষীদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ বাজারে পোলাও চালে আগুন, নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস কাউখালীতে ৩৩ দুস্থ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী লালমোহন ওয়েস্টার্ন পাড়া ক্রীড়া চক্রের কমিটি গঠন চাটমোহরে সাতটি প্রতিষ্ঠানে দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা ভেড়ামারায় নানা কর্মসূচিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন তিস্তায় পাথর উত্তোলনে প্রশাসনের অভিযানে ধ্বংস করা হলো অবৈধ সরঞ্জাম পটুয়াখালীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই পক্ষের হাতাহাতি কলমাকান্দায় অনুমোদনহীন ভবন ভাঙার কাজ শুরু শ্রীদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে স্কুলে হামলা, প্রধান শিক্ষককে মারধর


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » বাজারে পোলাও চালে আগুন, নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস

বাজারে পোলাও চালে আগুন, নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস


রায়হান উদ্দিন সুমন, হবিগঞ্জ ( সিলেট )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 বাজারে পোলাও চালে আগুন, নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস

সিলেট:হবিগঞ্জের হাটবাজারে পোলাও চালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিনির বাজারের অস্থিরতা। ভারত চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বাজারে প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে কোথাও কোথাও প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ভারতের বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ গত ১৩ মে কাঁচা, সাদা ও পরিশোধিত চিনি রপ্তানি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতেই দেশটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।
জেলাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পোলাও চাল ও চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। যে পোলাও চাল কিছুদিন আগেও কেজি ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই একই চাল বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ মানভেদে কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া চিনি বর্তমানে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।
হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজারের হিসাব নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।
পোলাও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ নিয়েও সংকটের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন দোকানি। অনেক ক্রেতা প্যাকেটজাত চিনি না পেয়ে খোলা চিনি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
হবিগঞ্জের চৌধুরী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা পুরাণ মুন্সেফির ক্রেতা উসমান মিয়া বলেন, প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। পোলাও চালের দাম বেড়েছে, চিনির দামও বাড়ছে। আগে যে টাকা নিয়ে বাজার করতাম, এখন একই টাকায় অনেক কম পণ্য কিনতে পারছি।
শরীফ স্টোরে চিনি কিনতে আসা ইনাতাবাদের ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, প্যাকেটজাত চিনি খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি দোকান ঘুরেছি, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। শেষমেষ ওই দোকানে পেলাম। আর যেসব দোকানে আছে, সেখানেও দাম বেশি। সাধারণ মানুষের জন্য এভাবে সবকিছুর দাম বাড়তে থাকাটা খুবই কষ্টের।
গৃহিণী পারভিন বেগম বলেন, চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের পাশাপাশি এখন চিনির দামও বাড়ছে। সংসারের আয় তো বাড়েনি। কিন্তু বাজার খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে। মাসের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে গেছে।
তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি এত বেশি দাম বাড়ছে কেন? তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত তদারকি করা হলে কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবেন না।
ক্রেতারা আরও জানান, প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহও অনেক দোকানে কমে গেছে। ফলে কোথাও কোথাও প্যাকেটজাত চিনি না পেয়ে খোলা চিনি কিনতে হচ্ছে তাদের। এতে বাজারে সরবরাহ সংকটের গুঞ্জন আরও জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চিনির বাজারে প্রভাব পড়ছে। ভারতীয় রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ নিয়ে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর পেলেই কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। তাই প্যাকেটজাত চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব থাকলেও স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিনি কোথায় কত দামে বিক্রি হচ্ছে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, পোলাও চাল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যে পার্থক্য খতিয়ে দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাজার মনিটরিং করা হোক। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পোলাও চাল ও চিনির এমন মূল্যবৃদ্ধিতে প্রশ্ন উঠেছেÑনিত্যপণ্যের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানবে কে? আয় না বাড়লেও বাজার খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৬:১২   ৪ বার পঠিত  |         







শিরোনাম থেকে আরও...


পীরগঞ্জে পেয়াজ চাষীদের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ
বাজারে পোলাও চালে আগুন, নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস
কাউখালীতে ৩৩ দুস্থ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণ করলেন প্রতিমন্ত্রী
লালমোহন ওয়েস্টার্ন পাড়া ক্রীড়া চক্রের কমিটি গঠন
চাটমোহরে সাতটি প্রতিষ্ঠানে দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা



আর্কাইভ