ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভারতের মধ্যপ্রদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারিকে নিজ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাঁর মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে তাঁর মায়ের দাবিকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নিধির পরিবার তাঁর প্রকৌশলী প্রেমিক সোনু সিংকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছে।
মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পূজা করার পাশাপাশি ফেসবুকে ‘লাভ ইয়োরসেলফ’ (নিজেকে ভালোবাসুন) বার্তা পোস্ট করেছিলেন নিধি। তাঁর মা পুলিশকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে এক বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন তিনি।
![]()
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকালে ভুসা মোড়ে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নিধির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বারাণসীর বাসিন্দা নিধি ভুসা মোড়ে মা ও ছোট বোনের সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে সংসারের দায়িত্বের বড় অংশই ছিল তাঁর ওপর। সিংগরাউলির মরওয়া এলাকার একটি হোটেলে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেখানে সোনু সিংয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সোনু একটি এনসিএল আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন এবং কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত ওই হোটেলে থাকতেন।
![]()
নিধির মা হেমলতা তিওয়ারির দাবি, তাঁদের ঘনিষ্ঠতা ধীরে ধীরে বাড়ে। পরে পরিবার জানতে পারে, সোনু বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। এরপর নিধিকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে বলা হয়। তবে তাঁদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন হেমলতা।
হেমলতা পুলিশকে জানান, সোনু নিয়মিত নিধির ওপর নজর রাখতেন। তিনি কোথায় আছেন, কার সঙ্গে আছেন—এসব জানতে চাইতেন। এমনকি বাড়িতে থাকলেও নিধি ব্লুটুথ ইয়ারফোনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
নিধির মা পুলিশকে আরও জানান, মৃত্যুর আগের রাতে তাঁর মেয়ে বাড়ির নিচতলায় পূজা করেছিলেন। এরপর ফোনে কথা বলতে বলতে নিজের ঘরে যান। ফোনে কথা শেষ হওয়ার পর দরজা বন্ধ করে দেন, তারপর আর খোলেননি। তবে ওই রাতে ঘরের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পরিবারও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেনি।
![]()
পুলিশ জানিয়েছে, ফোনের তথ্য ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিংগরাউলির পুলিশ সুপার সিয়াজ কে এম জানিয়েছেন, নিধির ফোনের কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সোনু সিং এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে পরিবারের দাবিগুলোও যাচাই করছে পুলিশ। মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং শেষ ফোনকলে কী কথা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে মৃত্যুর আগে নিধির ফেসবুক পোস্টটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি ছিল নিধির। ফেসবুকে তাঁর অনুসারী ৯ লাখ ২৮ হাজারের বেশি এবং ইনস্টাগ্রামে ৭ লাখ ১২ হাজারের বেশি। তিনি নিয়মিত নাচের রিল ভিডিও প্রকাশ করতেন। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিতেন। ২০২৪ সালে ‘মিস প্রিটি ইন্ডিয়া’ খেতাব জেতেন তিনি। অভিনয়েও কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর।
শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রকৌশলী সোনু সিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় নিধির তর্ক হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তিনি, যার শেষে লেখা ছিল ‘লাভ ইয়োরসেলফ’। পরে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন নিধি।
রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা দরজায় কড়া নাড়লেও তিনি সাড়া দেননি। রোববার সকালেও দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সন্দেহ হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে নিধিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৯:৪৪ ৯ বার পঠিত | ● নিধি ● মৃত্যু