ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: চরফ্যাসন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাউকেই পাননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমনা আফরোজ। গতকাল সোমবার ওই ইউনিয়নের সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর নিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইন উদ্দিন সোহাগকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল সোমবার চরফ্যাসন উপজেলার দুলারহাট থানার বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নের সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ইউএনও। সেখানে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দেখতে না পেয়ে তিনি ওই ইউনিয়নের বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী নুপুর বেগমকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। পাশের বাড়ির এক নারীকে কিছু টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করানো হয়। একবার পতাকা উত্তোলন করা হলে এরপর হয়তো পুরো মাস আর কেউ বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে স্থানীয় অনেক শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের পাশের একটি মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে, বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিনও নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হলেও কখনো বিদ্যালয়ে আসেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি তাঁকে কোনো শিক্ষার্থীই চেনে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইন উদ্দিন সোহাগের মোবাইল বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে, চর নিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী ছুটিতে ছিলেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইন উদ্দিন সোহাগকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমনা আফরোজ জানান, সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, চর নিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২১:০৬:১২ ২৩ বার পঠিত | ● কামাল উদ্দিন ● চরফ্যাসনে স্কুল পরিদর্শন ● রোমনা আফরোজ ● সিকদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়