ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞার ১৭ দিন পার হলেও দুই ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণ করা হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে চালের ভাগবণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলেরা।
জানা যায়, মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার, আহরণ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ সময় জেলেদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে দশমিনা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে চাল বিতরণ করা হলেও ১ নম্বর রণগোপালদী ও ৪ নম্বর দশমিনা ইউনিয়নে এখনো চাল দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে চালের ভাগবণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ১৭ দিন পার হলেও চাল না পেয়ে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন জেলেরা। কবে চাল পাবেন, আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাঁদের। সরকার সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের গড়িমসির কারণে ১৭ দিনেও তা পাননি তাঁরা। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে তাঁদের ঘোরানো হচ্ছে। তাঁদের খাওয়া-না-খাওয়া নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কোনো মাথাব্যথা নেই বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
জেলেরা আরও অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যদের স্বামীরা ইউনিয়ন পরিষদে বসে থাকেন। কোনো বিষয়ে পরিষদে গেলে তাঁরা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে ভাগবণ্টন নিয়ে বিরোধ, আত্মীয়স্বজন এবং জেলে নন—এমন ব্যক্তিদের জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণে চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। প্রকৃত জেলেরা যাতে চাল পান, সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
১ নম্বর রণগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম রুবেল মোবাইলে জানান, চাল বিতরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জেলেদের চাল দেওয়া হবে।
৪ নম্বর দশমিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান চাল বিতরণে বিলম্বের বিষয়ে বলেন, প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ পড়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। তাঁর ইউনিয়নে ২ হাজার ২৫০ জন জেলের নাম পাওয়া গেছে। ওয়ার্ডভিত্তিক জেলেদের নাম অনুযায়ী ইউপি সদস্যদের মধ্যে তালিকা বণ্টন করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া খসড়া তালিকা পাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জেলে তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি কিংবা ইউপি সদস্যদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কারণে চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউপি সদস্যদের চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারে। তবে যে ওয়ার্ডে জেলের সংখ্যা বেশি, সেই ওয়ার্ড অগ্রাধিকার পাবে।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই প্রত্যেক ইউনিয়নে জেলেদের চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাল বিতরণ না করার কারণ তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, প্রশাসনিক কাজ ও নিষেধাজ্ঞাকালীন অভিযান নিয়ে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। জেলেদের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি বোঝেন। এ কারণে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বারবার চাল বিতরণের জন্য বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানরা আগামীকাল সোমবার চাল বিতরণ করবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন। এরপরও চাল বিতরণ না করা হলে এর কারণ লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হবে।
জেলে তালিকায় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের আত্মীয়স্বজন এবং জেলে নন—এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৮:১৫ ৭ বার পঠিত | ● দশমিনা ইউনিয়ন ● দশমিনায় জেলেদের চাল বিতরণ ● মা ইলিশ সংরক্ষণ ● রণগোপালদী ইউনিয়ন