ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: জেলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের চরকচ্ছপিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপুর এলাকায় ভুয়া ওয়ারিশ কায়েম সনদ ব্যবহার করে জমির অংশ দাবি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে গজনবী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রকৃত ওয়ারিশরা জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর এলাকার মৃত সেকান্তর মিয়ার প্রথম স্ত্রী ছিলেন লালবরু। তাঁদের ঘরে সুরুত আলী নামে এক ছেলে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পারিবারিক কলহের জেরে সেকান্তর মিয়া লালবরুকে তালাক দিয়ে সংশী বিবিকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সেকান্তর মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া ১ একর ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তির হিস্যা নির্ধারণ করা হয়। তবে সংশী বিবির প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ নিয়েও বিরোধ দেখা দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুরুত আলীর ছেলে গজনবী ২০২১ সালে বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফরিদ তালুকদারের কাছ থেকে তাঁর দাদী লালবরুকে ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে একটি ওয়ারিশ কায়েম সনদ সংগ্রহ করেন। ওই সনদের ভিত্তিতে সংশী বিবির প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় সংশী বিবি ভোলা আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন বলে জানা গেছে। মামলায় ব্যবহৃত ওয়ারিশ সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তিনি রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদনসহ আপিল করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপিল মামলা নম্বর ১৫/২০২০ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মৃত সেকান্তর মিয়ার মেয়ে লুৎফা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবা লালবরুকে তালাক দেওয়ার পর সংশী বিবিকে বিয়ে করেন। পরে লালবরু পাশের এলাকার গহর আলীকে বিয়ে করেন। গহর আলী একসময় নাজিরপুর থেকে কালাইয়া নৌপথে খেয়া পারাপারের কাজ করতেন। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
লুৎফা বেগমের দাবি, ওয়ারিশ সনদকে কেন্দ্র করে গজনবী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি। স্থানীয় রত্তন দফাদার, আজাহার মুসলমান, আলী মুসলমান ও রুহুল আমিনও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত গজনবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের জমি আমরা ভোগদখলে আছি।”
এ বিষয়ে বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ও ওয়ারিশ সনদে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষরকারী আবু চৌকিদার বলেন, “সঠিকভাবে তদন্ত করে জানতে পেরেছি, সেকান্তর মিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির ২ আনার মালিক সংশী বিবি। আর লালবরুকে আগেই ডিভোর্স দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়েছিল।”
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৮:৩৪ ৩ বার পঠিত | ● গজনবী ● বদরপুর ইউনিয়ন ● ভুয়া ওয়ারিশ কায়েম সনদ ● লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধ