ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বেড়ে উঠছে ধান। মাঠজুড়ে সবুজ ধানগাছ আর দুলতে থাকা শীষ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। তাঁদের চোখেমুখে পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। তবে ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমিতে ধানগাছ বেড়ে উঠছে। কোথাও সবুজ ধানগাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে, আবার কোথাও ধানের শীষে দানা গঠিত হচ্ছে। কৃষকেরা নিয়মিত জমির পরিচর্যা, সেচ ও পোকামাকড় দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফসলের বর্তমান অবস্থা দেখে অনেক কৃষকই ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন।
তবে ধান চাষে ভালো ফলনই কৃষকদের একমাত্র প্রত্যাশা নয়। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে ভালো ফলন হলেও বাজারে উপযুক্ত দাম না পেলে কাঙ্ক্ষিত লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভেড়ামারার মাঠে ধান চাষ করা কৃষকদের কাছে প্রতিটি ধানগাছের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আশা, পরিশ্রম ও পরিবারের ভবিষ্যৎ। দীর্ঘদিনের পরিচর্যা ও বিনিয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
ধানচাষি নাজির বলেন, ধান চাষ করতে অনেক খরচ হয়। জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে টাকা ব্যয় করতে হয়। এবার ফসল ভালো হলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। তবে ধান ঘরে তোলার পর যেন ন্যায্য দাম পাই, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আরেক কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মাঠের ধান দেখে আমরা আশাবাদী। তবে কৃষিকাজে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে কিংবা রোগবালাই দেখা দিলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়ার জন্য নিয়মিত জমির পরিচর্যা করতে হচ্ছে।
অন্য এক কৃষক দিলদার আলি বলেন, কৃষকেরা দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান দেন। কিন্তু উৎপাদন খরচ বাড়লে আর ধানের দাম সেই তুলনায় না বাড়লে লাভ করা কঠিন হয়ে যায়। সরকারিভাবে ধান কেনার ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেলে আমরা কৃষিকাজে আরও উৎসাহিত হব।
ধানের ভালো ফলন অনেকাংশে নির্ভর করে অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ওপর। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই কিংবা পোকামাকড়ের আক্রমণে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে ধান কাটার আগপর্যন্ত কৃষকদের সতর্ক থাকতে হয়।
অন্যদিকে, ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের প্রাপ্যতা ও মজুরি কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও ধানের বাজারদর সন্তোষজনক না হলে কৃষকদের লাভ কমে যায়। তাই ধান উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা সুলতানা বলেন, ধানের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ, সুষম সার প্রয়োগ, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ এবং রোগবালাই দমনে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কৃষকদের উৎপাদিত ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ধান চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকদের শ্রম ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যের জোগান।
তাই কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ধান সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে কৃষকবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৬:৩৫ ৪ বার পঠিত | ● কুষ্টিয়ার কৃষি ● ধানের ন্যায্যমূল্য ● ভেড়ামারায় ধান চাষ ● মাহমুদা সুলতানা