ঢাকা    রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• ভেড়ামারায় ট্যাপেন্টাডলসহ তিনজন আটক, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড • মানিকগঞ্জের বেউথায় কালীগঙ্গায় নৌকাবাইচ ঘিরে জনসমুদ্র • দুমকির অপহৃত ১২ বছরের শিশুকে কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ • আড়াইহাজারে নবনিযুক্ত সরকারি চাকরিজীবীদের সংবর্ধনা • ভেড়ামারায় পদ্মার ভাঙনে বিলীন ২৫ হেক্টর কৃষিজমি, শতবিঘা পানের বরজ • কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল • আসিয়াবের ১০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও, সাবেক হিসাবরক্ষক হাফিজ কারাগারে • বাল্যবিয়ের ছোবলে কমছে উলিপুরের বালিকা শিক্ষার্থী, সংকটে প্রতিষ্ঠান • অনুমতির ছাড়াই পাহাড় কাটায় নবীগঞ্জে মাটি বিক্রি, বন্ধ করল প্রশাসন • হলতা নদী থেকে নিখোঁজ কিশোর জিহাদের মরদেহ উদ্ধার


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » উরখুলিয়ায় একটি পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি, বাড়িতে হামলা,আহত ৩

উরখুলিয়ায় একটি পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি, বাড়িতে হামলা,আহত ৩


নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬


 ---

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তরের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার মুরহুম লাল মিয়া মাস্টারের পরিবারকে বাড়ি ও গ্রাম ছাড়ার হুমকি ও পরবর্তীতে হামলার করার অভিযোগ উঠে এলাকার মোঃ রাজ্জাক মিয়ার ছেলে প্রভাশালী আবদুল আওয়ালের বিরুদ্ধে ।

তার নির্দেশে এলাকার রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার ওই পরিবারটিকে বাড়ি ও গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং তার লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালায়।

রবিবার (২৯/০৩) মরহুম লাল মিয়া মাষ্টারের ছেলে হারুনুর রশিদ, প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম,কবির হোসেন, কামরুল হোসেন ও জামাল হোসেন সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান,তারা কেউ গ্রামের বাড়িতে থাকেন না।কর্মের তাগিদে ১৯৯৭ সালেই গ্রাম ছেড়ে দেশ বিদেশে চলে যান। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদের পর গত ২৬ মার্চ তিনি ও তার দেশ বিদেশে থাকা ভাইয়েরা গ্রামের বাড়িতে আসেন। তিনি দাবী করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল্লাহ আওয়ালের মদতেই এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।তার বিরুদ্ধে ঢাকায় বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনসহ একাধিক অপরাধমূলক ঘটনার মামলা রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদা ও জোর পূর্বক রাস্তা নির্মান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বর্তমানে তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ঘটনার পর জাহাঙ্গীর আলম সরকার নবীনগর থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন। এর জের ধরে শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার ও আউয়াল গ্রুপের লোকজন মিলে জাহাঙ্গীর সরকারের বাড়ির মিজানুর রহমান (৪০), জিয়াউর রহমান (৪৫) ও আক্তার হোসেন (৪০)-কে মারধর করে। এ সময় জাহাঙ্গীর ও তার ভাইয়েরা বাড়িতে ছিলেন না।হামলার শিকার
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাছির মিয়ার নেতৃত্বে ফিরোজ, তাজুল, রুবেল, করিম, সামছু মিয়া, সিদ্দিক মিয়া ও আবুল কালাম হামলায় অংশ নেয়। আহত ওই তিনজন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। এ মারধরের ঘটনা পুলিশকে জানালে শনিবার সন্ধ্যায় থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।

জাহাঙ্গীর আলম আরো দাবী করেন,ঈদ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনদের দেখতে আসলে তারা নানাহ্ অযুহাতে তাদের উপর মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন চালায়।তাদের সাথে গ্রামের অন্যদেরকে কথা বলা নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে,এমনকি গ্রামের বিভিন্ন উৎসবে দাওয়াত দেওয়াও নিষেধ করা হয়। এই আদেশ অমান্য করলে গ্রাম্য মোড়ল আওয়াল মিয়ার লোকজন অপমান করাসহ মার-ধর করে। তাই গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে কথা বলাতে সাহস পায় না। বাড়ি ছাড়ার হুমকি ও মারধরের ঘটনায় শনিবার রাতেই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন বলেও জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রভাবশালী আওয়াল মিয়া রাস্তা নেয়ার জমির আইল বাদ দিয়ে জোর পূর্বক প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়ির ভেতর দিয়ে সরকারি রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে উরখুলিয়া গ্রাম কমিটির সভাপতি ও বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, পূর্ব বিরোধ ও এই রাস্তার বিষয় নিয়েই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা মাঝে মধ্যে গ্রামে এসে দলা দলি ও বিরোধ সৃষ্টি করে।এতে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠে। গ্রামকে শান্ত রাখার স্বার্থে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়িতে গিয়ে তাদের সতর্ক করেন মাত্র।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল আওয়াল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,এই গ্রামে ১১টি খুন হয়েছে। সর্বশেষ খুনটি হয় ২০০৯ সালে। তারপর থেকে গ্রামকে ঐক্যবদ্ধ করে গ্রামের উন্ময়নসহ দাঙ্গামুক্ত রেখেছি। গ্রামের কাউকে বাড়ি ও গ্রাম ছাড়ার হুমকি এ ধরনের ঘটনা এটা অবিশ্বাস আমি জানিনা। আমি এর সাথে জড়িত নই।আমার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার আছে,কেউ যদি আমার নাম ব্যাবহার করে থাকে সেটারও বিচার হতে হবে।

এ ব্যাপারে পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েই ঘটনা স্থলে যাই। ওই পরিবারটার সাথে গ্রামের একটি গোষ্ঠীর বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে হুমকি দামকি ও সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।এলাকাটি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৫:৪৮   ২৭৬ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


● নবীনগরে পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত চালুর দাবি বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের
● হাতিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধানসহ তিনজন আটক
● এক ইলিশ বিক্রি হলো সাড়ে ১৩ হাজার টাকা
● হাতিয়ার একট্রলার৬০ মণ ইলিশ, বিক্রি ২০ লাখ টাকায়
● হাতিয়ায় আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোপের মুখে এমপি হান্নান, হাতাহাতিতে আহত ৮



আর্কাইভ