ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » বিএনপি নেতা ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম

বিএনপি নেতা ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম


মাহবুবুর রহমান টিপু, ( দোহার )
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


বিএনপি নেতা ও বৃদ্ধ শাশুড়িকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম
ঢাকা: নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিমুলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এসময় আহত জামাতাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তাঁর ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ শাশুড়ি রমেলা বেগমও। বর্তমানে তাঁরা নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শোল্লা ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের বাড়ি থেকে মোটর সাইকেলযোগে শাশুড়িকে নিয়ে বের হউন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শিমুল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দক্ষিণ জামসা এলাকার গাজী চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড়ে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী। মোটরসাইকেলটি মোড় পার হওয়ার সময় তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে সন্ত্রাসীরা।এ সময়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থাকা স্থানীয় (আজিজ মাস্টারের ছেলে) মো.সিফাত প্রথমে শিমুলের মাথায় আঘাত করে তাকে সড়কের উপর ফেলে দেয়। এরপর শুরু হয় এলোপাতাড়ি কোপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাড় গুঁড়ো করার নৃশংসতা।
মটরসাইকেল পাশে থাকা শাশুড়ি চিৎকার করে জামাতাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুধঘাটা-জামসা- সুকানিপাড়া মাদ্রাসা ও ঈদগাহ’র আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় আজিজ মাস্টার ও কাজী শহীদুল্লাহ গ্রুপের সঙ্গে বিএনপি নেতা শিমুলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল।তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আল্টিমেটাম দেন বিএনপি নেতাকে দেখে নেওয়ার। এ বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠকে বিষয়টি ঈদুল আজহা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকেই কাজী শহীদুল্লাহ বিএনপি নেতা শিমুলকে ‘দেখে নেওয়ার’ প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। আজকের হামলা সেই হুমকিরই প্রতিফলন বলে দাবি করছে গুরুত্বর আহতের পরিবার।

ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তড়িঘড়ি করে ভর্তি করা হয় আহতদের। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ও
নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম সেখানে ছুটে যান।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতা খন্দকার আবুল কালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমিটিকে কেন্দ্র করে এমন পাশবিকতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম খান জানান, পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহতদের জবানবন্দি নিয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ জানান, হামলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।আহতদের পরিবারের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৬:১০   ১৮৪ বার পঠিত  |         







ঢাকা থেকে আরও...


বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক রিয়াজ মুস্তাফিজ
ভূঞাপুরে ১ মাসের শিশুকে নিয়মিত টিকার বদলে জলাতঙ্কের টিকা দেয়ার অভিযোগ
ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন
দোহারে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিলো গনমাধ্যম কর্মিরা
দোহারে ফের বসত ঘরে অগ্নিকাণ্ড



আর্কাইভ