ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• আশুলিয়ায় আগুনে পুড়ল ১০ গোডাউন, আড়াই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে • হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মিলল তরুণীর লাশ, স্বামীসহ আটক ৩ • যুক্তরাজ্যের সৈকতে শত শত নীল সামুদ্রিক প্রাণী, জেলিফিশ ভেবে ভুল করছেন অনেকে • প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট • জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি, ফ্যাসিবাদ ফিরলে নিতে হবে দায় • রাতে নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাবো’ স্ট্যাটাস,সকালে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ • মেয়াদপূর্তির আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনল সরকার • মানসিক সুস্থতাকে স্বাস্থ্যনীতিতে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী • রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি জনগণের স্বার্থবিরোধী: রিজভী • ভবন সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলছে সাহরাইল ডাকঘর


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » ভেড়ামারায় দম ফেলার ফুসরত নেই কামার পাড়ায়

ভেড়ামারায় দম ফেলার ফুসরত নেই কামার পাড়ায়




ভেড়ামারায় দম ফেলার ফুসরত নেই কামার পাড়ায়

কুষ্টিয়া: ভেড়ামারায় পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কামারপাড়াগুলোতে ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জ্বলছে কামারশালার জ্বলন্ত কয়লার আগুন। লোহা পুড়িয়ে পিটিয়ে নতুন দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও কুড়াল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার শত শত কামার শিল্পী। একই সাথে চলছে পুরোনো ভোঁতা হয়ে যাওয়া সরঞ্জামগুলোতে শান দেওয়ার কাজ।
সরেজমিনে ভেড়ামারার বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, কারিগরদের চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও হাত থামানোর কোনো উপায় নেই। কয়লার উনুনে ফুঁসছে হাঁপর, লাল টকটকে লোহা বের করে আনা হচ্ছে নেহাইয়ের ওপর। এরপর দুই-তিনজনের সম্মিলিত হাতুড়ির আঘাতে লোহা রূপ নিচ্ছে ধারালো অস্ত্রে।

স্থানীয় কামাররা জানান, বছরের অন্য ১১ মাস ব্যবসা কোনো রকমে চললেও এই একটি মৌসুমের আয়ের ওপর তাঁদের পুরো বছরের সংসার খরচ ও দেনা-পাওনা পরিশোধ নির্ভর করে। তাই এই সময়টাতে তাঁরা সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে কাজ করেন।

ব্যস্ততা বাড়লেও কামারদের কপালে চিন্তার ভাঁজও দেখা গেছে। কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে লোহা, ইস্পাত এবং কয়লার দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে তাঁদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়েই নতুন তৈরি করা সরঞ্জামের দাম কিছুটা বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বর্তমানে আকার ও মানভেদে প্রতিটি বড় জবাই করার ছুরি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা, মাংস কাটার চাপাতি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা, সাধারণ দা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বঁটি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, পুরোনো সরঞ্জাম শান বা ধার দেওয়ার জন্য ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

কামারশালাগুলোতে আসা ক্রেতারা জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরই তাঁদের নতুন ছুরি বা দা কিনতে হয় অথবা পুরোনোটা ধার করে নিতে হয়। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় অনেকেই দরদাম করে কেনাকাটা করছেন।

ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের কারিগররা জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে এবং কাঁচামালের চড়া মূল্যের কারণে কামার শিল্প এখন ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এই প্রাচীন কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। আপাতত সব ক্লান্তি ভুলে ঈদের এই বাড়তি আয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালোভাবে ঈদ উদযাপনের স্বপ্ন দেখছেন ভেড়ামারার কামাররা।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৩:০০   ১৪০ বার পঠিত  | ●   ●   ●







খুলনা থেকে আরও...


● কয়রায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ছয় বন্দুকসহ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
● ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বাড়াতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা
● ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিতে জরিমানা
● ভেড়ামারায় মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতা সভা
● পাইকগাছায় ‘ভিপি সম্পত্তি’ বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম



আর্কাইভ