ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জে নানার বাড়িতে হাতুড়ে ডাক্তারের নিকটে দাতের চিকিৎসা করতে গিয়ে মৃত্যূ কোলে ঢলে পড়েন। উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের ইমামবাড়ি বাজারে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীর অপচিকিৎসার অভিযোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৯ বছরের এক কিশোরীর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাকে উন্নত চিকিৎসার কিশোরীর পরিবার আবেদন জানান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যূ হয়। বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করেছেন বলে নিহত তানহার মামা আলমগীর মিয়া জানান। স্থানীয় লোকজন জানান, হাতুড়ের চিকিৎসক শামসুদ্দিনকে সাথে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী নগদ এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর তানহা বেগম (৯) তার বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের গুনই গ্রামে তার নানি খোসেদা খাতুন। একই ইউনিয়নের বড় আব্দা গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে হাতুড়ে ডাক্তার সামসুদ্দিন বিষয়ে, পরিবার জানায়, নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে দাঁতের সমস্যায় আক্রান্ত হলে গত ২৭ মে তার নানি খোসেদা খাতুন তাকে নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি বাজারস্থ ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সেখানে ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও কথিত দাঁতের চিকিৎসক শামসুদ্দিন কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিশোরীর একটি দাঁত তুলে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, দাঁত তোলার পর থেকেই কিশোরীর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ফার্মেসি থেকে বের হওয়ার পরও রক্ত বন্ধ না হলে পরিবারের লোকজন পুনরায় সেখানে ফিরে যান। কিন্তু তখন শামসুদ্দিন কে আর ফার্মেসিতে পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ইমামবাড়ি বাজারের অন্য একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
পরদিন ২৮ মে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীর অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেননি ফলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নানি খোসেদা খাতুন জানান, দাঁত তোলার পর থেকেই কিশোরীর মুখে খাবার গ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সে কোনো ধরনের শক্ত বা স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছিল না‘। প্রচুর রক্ত করণ হয়েছে। ফলে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে আজকে (বৃহস্পতিবার) সকালে সে মারা যায়।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে শামসুদ্দিন দাঁত তোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আমি যেদিন দাঁত তুলেছি সেদিন রোগি মারা যায়নি । এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে।
নিহত তানহার মামা আলমগীর মিয়া বলেন, আমার ভাগনি মারা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ কোরাইসি মক্কী ভাই বিষয়টি আপোষে মীমাংসা করে দিয়েছেন। আমার ভাগনীকে ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করেছি।
এবিষয়ে ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ কোরাইসি মক্কী বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, কিভাবে শেষ হয়েছে বিষয়টি কিছুই জানিনা। খোঁজ খবর নিয়ে আপনাদের বক্তব্য দিতে হবে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানা ওসি মোনায়েম মিয়া বলেন এবিষয়ে এখন কেউ মামলা দেয়নি। কেউ অভিযোগ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪২:২৩ ৩ বার পঠিত | ● অপচিকিৎসায় ● কিশোরী ● নবীগঞ্জ ● মৃত্যু
----