ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ইকবাল মিয়া (৬০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১২/০৬) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত ইকবাল হোসেন উপজেলার টিয়ারা গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।রাতেই নিহতে ভাই ফোরকান মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের নেতা প্রভাবশালী শিশু মিয়াকে প্রধান আসামি ও ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
সুত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন এবং প্রভাবশালী আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ১ জুন সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে পরদিন ২ জুন মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টিয়ারা বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাজারে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আবুল হোসেন পক্ষের ইকবাল মিয়া (৬০) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এই ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো গত ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ৭টায় বাজারে দুধ বিক্রি করতে যান ইকবাল হোসেন। ওই সময় প্রতিপক্ষ আতিকুর রহমান শিশু মিয়ার নেতৃত্বে ইকবালের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লোহার রড, স্টিলের লাঠি এবং হকি স্টিক দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। ইকবাল হোসেনকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থা অবনতি হলে ৫ জুন শুক্রবার তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহতের ছোট ভাই শিমুল জানান, টিয়ারা বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও পূর্বশত্রুতার জেরে শিশু মিয়া ও তাঁর লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে এবং এ ঘটনায় তাঁরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ শিশু মিয়া গ্রুপের শাহিন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া জানান, গত (২ জুনের) মারধরের ঘটনায় ইকবাল মোটেও গুরুতর আহত হননি। এমনকি মারামারির ঘটনার কয়েকদিন পর টিয়ারা বাজারে সুস্থ শরীরে স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তাঁদের দাবি, ইকবালের মৃত্যুর পেছনে রয়েছে তাঁর নিজস্ব পারিবারিক বিরোধ। গত ৫ ও ৭ জুন ইকবালের আপন ভাই শিমুল এবং ভাতিজা ইমরানের সাথে তাঁর ঘরে মারামারি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা ইমরান ইকবালকে জাপটে ধরে ধস্তাধস্তি করার সময় ইকবাল ঘরের পাশের একটি উঁচু ড্রেনে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। মূলত ওই পারিবারিক কলহের আঘাতের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের ভাই ফোরকান মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় শিশু মিয়াকে প্রধান আসামি ও ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে তবে গ্রামটি পুলিশের নজরদারিতে করেছে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
এন/ এন
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৪:৪৫ ২২ বার পঠিত | ● নবীনগর ● নিহত ● মামলা
----