ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
![]()
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নারী সংগঠনের কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জেরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। গত রোববার বিকেলে তাদের মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার শুরু গত শনিবার। এদিন দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগ ‘তালিমুল কোরআন’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে শতাধিক নারী অংশ নেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি নেতারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়। বিষয়টির রেশ কাটতে না কাটতেই একটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয়। সেই পোস্ট শেয়ার করেন ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা। এ নিয়ে রোববার দুপুরে তাঁকে বিএনপি নেতাকর্মীরা মারধর করেন।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ চলাকালে নারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী খারাপ আচরণ করেন। প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করলে পাল্টা কর্মসূচি দেয় বিএনপি। এ সময় জামায়াতের ৪ নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়।
বিএনপির পক্ষের দাবি, মডেল মসজিদে রাজনৈতিক গোপন বৈঠকে বসেছিলেন জামায়াতের নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি বিকেলে দেশি অস্ত্র নিয়ে জামায়াত কর্মীরা মিছিল করেন। সেখানে বিএনপি ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে বিএনপির পাঁচজনকে দেশি অস্ত্র দিয় আঘাত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে যেতে বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটনের ভাষ্য, ‘শনিবার মা-বোনদের মডেল মসজিদে আটকে রেখে আমাদের প্রতিপক্ষ গালিগালাজ করে। রোববার দুপুরে তারা আমাদের দলের এক কর্মীকে নির্যাতন করে। বিকেলে ইউএনও আমাদের ডাকেন। গিয়ে দেখি, বিপক্ষ দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছে। সেখানে তাদের সঙ্গে আমাদের তর্কাতর্কি হলে বাইরে অবস্থান নেওয়া আমাদের ৫ নেতাকর্মীকে মারপিট করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশি পাহারায় তারা সেখান থেকে এসে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন। মডেল মসজিদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল বলেও জানান।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে উপজেলা মডেল মসজিদে একটি রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীরা তাদের কার্যকলাপ চালায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনায় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয়। আবার আমাদের উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে বাজে কথাবার্তা লিখে এক নারীর সঙ্গে ছবি দিয়ে পোস্ট করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে।’ তিনি বলেন, শহরে ওরা লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছে। এজন্য তাদের (জামায়াত) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
দামুড়হুদা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজাদ রহমান জানান, ছাত্রশিবিরের সাবেক এক কর্মী পুলিশের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা বা অভিযোগ করেনি।
ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অনুমতি ছাড়াই মডেল মসজিদে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির আয়োজনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার শাহজাহান আলীকে শোকজ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৬:৩৩ ৮ বার পঠিত |