ঢাকা    সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
লালমোহনে মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য নিয়ে অবহিতকরণ সভা এমপি সেলিম রেজা হাবিবের সঙ্গে বাপুস সুজানগর উপজেলার নবনির্বাচিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময় কাঁঠালিয়ায় আট মাসের শিশুকে লাখ টাকায় বিক্রি নাজিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ জন গ্রেফতার লালমোহনে নিজ ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার বালিকা বিদ্যালয়ের চার কৃতি শিক্ষার্থীকে সংর্বধনা পটুুয়াখালী বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চে উত্তাপ দোহারে কথা-কাটাকাটির জেরে কুপিয়ে জখম কাউখালীতে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ দশমিনায় গরু চুরি করে গাড়িতে তোলার সময়ে জনতার হাতে আটক ২


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রাজশাহী » রাজশাহীর হাটে হাটে উঠছে নতুন পাট, দামে খুশি চাষিরা

রাজশাহীর হাটে হাটে উঠছে নতুন পাট, দামে খুশি চাষিরা


গোলাম কিবরিয়া (রাজশাহী)
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


 রাজশাহীর হাটে হাটে উঠছে নতুন পাট, দামে খুশি চাষিরা

রাজশাহী: উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন হাট-বাজারে আগাম নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকেরা।

জেলার দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাগমারা উপজেলার হাট ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ দাম বেশ খানিকটা বেশি হওয়ায় পাট চাষ কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীতে সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পাটের বীজ বপন করা হয়। এরপর শ্রাবণ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত চলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ। আগাম জাতের পাট জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই কাটা শুরু হয়।

দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, `আগাম কিছু পাট কেটেছি। বিক্রি শুরু করছি। মণ ৪ হাজার টাকার ওপরে। এরকম দাম থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবে। আমদানি বেশি হলে দাম কমে যায়। তখন কৃষকের লোকসান হয়।’

পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া গ্রামের রাকিব উদ্দিন বলেন, `চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতি মণ পাট সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারি, তাহলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভ থাকবে।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর এই আবাদ ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ৪৯ হাজার ৩৩৩ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪৮ হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। সে হিসাবে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৫৬ মেট্রিক টন বেশি।
জেলার বাগমারার তাহেরপুর হাটের মোকামে পাট বিক্রি করছিলেন চাষি আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, `সার সেচ কম লাগলেও পাটে পরিশ্রম বেশি। বিশেষ করে জাগ দেওয়া ও শুকানো। এজন্য শ্রমিক খরচ বেশি হয়। এখন যে দাম আছে তাতে খুশি। দাম কমলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। উৎপাদন খরচ উঠবে না।’

হাটের পাট বিক্রেতা চাষিরা জানান, পাটের হাট সাধারণত ভোরবেলায় বসে। হাটবারে বিভিন্ন উপজেলার পাট কেনাবেচা হয়। ভোর থেকে শুরু হয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যেই কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রকারভেদে ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছে।

পাট ব্যবসায়ী সলিম উদ্দিন বলেন, `রাজশাহীতে এবার পানি কম। চাষিদের অভিযোগ, পাট জাগের জায়গা সংকট। তাই পাটের রং খুব ভালো না। আর পাটের মান ভালো না হওয়ার কারণে দাম তুলনামূলক কম পাচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।’

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, `সবেমাত্র পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাটে হাটে অল্প পরিসরে নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে। এবার পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে। শুরু থেকেই পাটের ভালো দামও আছে। আশা করছি, চাষিরা লাভবান হবেন।’

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৮:৪৯   ৬৪ বার পঠিত  |         







রাজশাহী থেকে আরও...


এমপি সেলিম রেজা হাবিবের সঙ্গে বাপুস সুজানগর উপজেলার নবনির্বাচিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়
চাটমোহরে কোন বহিরাগতকে মেনে নেওয়া হবে: অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা
চাটমোহরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক
সুজানগরের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভা
চাটমোহরে জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপিত



আর্কাইভ