ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: নেছারাবাদে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে নেমে মো. মনির শেখ (৪২) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মো. কুদ্দুস (৭০) নামে অপর এক শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামের তারা মিয়ার ভবনে কাজ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনির শেখ পাশের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খলনী গ্রামের মো. আব্দুল জলিল শেখের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী রাজমিস্ত্রী মো. শাহ আলম জানান, মনির শেখ ও তাঁর সহযোগী কুদ্দুস রাজাবাড়ী গ্রামের তারা মিয়ার বাড়ির সেফটি ট্যাংকের কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ট্যাংকটির ঢাকনা খুলে ভেতরের ঢালাইয়ের সেন্টারিং খুলতে মনির প্রথমে ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে কুদ্দুসও সেখানে নামেন। এ সময় শাহ আলমসহ অন্য শ্রমিকরা পাশের একটি ভবনে কাজ করছিলেন।
তিনি বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁরা ছুটে গিয়ে দেখেন, সেফটি ট্যাংকের ভেতরে দুজনই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে কয়েকজন মিলে ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনির শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। কুদ্দুসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের বাবা মো. আব্দুল জলিল শেখ বলেন, সকালে তাঁর ছেলে রাজাবাড়ীর তারা মিয়ার ভবনের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে নেমেছিলেন। সেখানে নেমে শ্বাস বন্ধ হয়ে তাঁর ছেলে ও তাঁর সহযোগী অচেতন হয়ে পড়েন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়।
নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, সেফটি ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেন না থাকায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে একজন মারা গেছেন। তাঁর সহযোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মৃত মনির শেখ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেঃ মেহেদী হাসান বলেন, সেফটি ট্যাংকের ভেতরে নেমে মনির শেখ অচেতন হয়ে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মনির শেখের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৯:৫১ ২ বার পঠিত |