ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের মধ্যেই বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এর ফলে আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকা ‘বুসান চুক্তি’র মেয়াদ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশ আরও বড় একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এ তথ্য জানান। চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ছোটখাটো কয়েকটি বিষয়ের পরিবর্তে দুই দেশ আরও বড় কোনো চুক্তি করতে পারে কি না, তা যাচাই করছে। এ কারণেই বুসান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে বুধবার তিন দিনের সফরে ওয়াশিংটনে পৌঁছান শি জিনপিং। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর অদূরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে তাকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিদেশি কোনো নেতাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উপস্থিতি বিরল বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।
শি পৌঁছানোর সময় ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী এবং শি ও তাঁর স্ত্রী করমর্দন করেন, কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ছবি তোলেন। এ সময় সামরিক বাদকদল সুর তোলে, তোপধ্বনি করা হয় এবং আকাশে একটি বি-১ সামরিক বোমারু বিমান উড়ে যায়।
শি এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হিসেবে কাজ করা। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ‘মহান পুনর্জাগরণ’ এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলা’—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে আতিথ্য দিয়েছিলেন শি। এবার ওয়াশিংটন সফরে তাঁর কর্মসূচিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, হোয়াইট হাউসে সামরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষিত রয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো বিষয় উঠে আসতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, যদিও দ্বীপটি নিজস্ব সরকারব্যবস্থায় পরিচালিত।
স্টিমসন সেন্টারের চায়না প্রোগ্রামের পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ ফেলো ইউন সান শি জিনপিংয়ের সফরকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ইতিহাসে এমন নজির নেই, যেখানে এক বছরের মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা একে অপরের দেশ সফর করেছেন। তাঁর মতে, মাত্র ১২ মাস আগেও দুই দেশ শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছিল, তাই বর্তমান স্থিতিশীলতা উল্লেখযোগ্য।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে ইউন সান বলেন, বেইজিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ আটকে দেওয়া বা বিলম্বিত করা। এ প্যাকেজ কংগ্রেস অনুমোদন করলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা এগিয়ে নিতে অনাগ্রহী ছিল।
এআই নিয়েও দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন ইউন সান। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একটি হটলাইন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো দেশে এআই-সংক্রান্ত বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে দুই দেশ পরস্পরকে দ্রুত অবহিত করতে পারবে। এখন আলোচনায় এ বিষয়ে দুই নেতা কোনো অগ্রগতি করতে পারেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক সমঝোতার আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ১০ জানুয়ারির মধ্যে বড় কোনো চুক্তি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২৬:৩৬ ৯ বার পঠিত | ● চীন ● যুক্তরাষ্ট্র