ঢাকা সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: পাইকগাছায় কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত দুই মাসে এসব প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৭৩৯ জন। এর মধ্যে আগস্টে ৩৮৬ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৩৫৩ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন ৮১ জন। এ ছাড়া বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন ৩০৫ জন। সব মিলিয়ে ওই মাসে প্রাণীর আক্রমণের ঘটনায় চিকিৎসা নেন ৩৮৬ জন। তাঁদের মধ্যে ক্যাটাগরি-১-এর রোগী ছিলেন ৩২ জন, ক্যাটাগরি-২-এর ৩২৫ জন এবং ক্যাটাগরি-৩-এর ২৯ জন।
আগস্টে আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন নেন ১৩২ জন, দ্বিতীয় ডোজ ১১০ জন এবং তৃতীয় ডোজ ১৪৪ জন। অর্থাৎ ওই মাসে মোট ৩৮৬ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
সেপ্টেম্বরেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ওই মাসে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন ৩৭ জন। বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন ৩১৬ জন। এ মাসে ক্যাটাগরি-১-এর রোগী ছিলেন ২ জন, ক্যাটাগরি-২-এর ৩৩৭ জন এবং ক্যাটাগরি-৩-এর ১৪ জন।
সেপ্টেম্বরে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন নেন ১২০ জন, দ্বিতীয় ডোজ ১০৫ জন এবং তৃতীয় ডোজ ১২৮ জন। সব মিলিয়ে ওই মাসে ৩৫৩ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২৫২ জন, দ্বিতীয় ডোজ ২১৫ জন এবং তৃতীয় ডোজ ২৭২ জন। অর্থাৎ তিন ধরনের ডোজ মিলিয়ে মোট ৭৩৯টি ভ্যাকসিন দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
পাইকগাছা পৌরসভার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা বাড়ছে। এতে অনেকেই কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এসব প্রাণী নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের সংখ্যা অনেক জায়গায় বেড়েছে। পাশাপাশি বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের ঘটনাও ঘটছে। অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়ে চামড়া কেটে গেলে বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ করে কুকুরের কামড়ের ক্ষেত্রে প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ক্ষত গভীর হলে, অতিরিক্ত রক্তপাত হলে কিংবা মুখ, মাথা বা শরীরের সংবেদনশীল কোনো স্থানে কামড় বা আঁচড় লাগলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে ময়না বলেন, প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পোষা প্রাণীদেরও ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
পাইকগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম দেবনাথ বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রাণীদের জন্য সরকার বর্তমানে কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করে না। কেউ প্রাণীকে ভ্যাকসিন দিতে চাইলে বাইরে থেকে কিনে দিতে হবে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলাতঙ্কের ঝুঁকি, প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর করণীয় এবং ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো দরকার। তাঁদের আশঙ্কা, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে প্রাণীর আক্রমণের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩২:৪৮ ২ বার পঠিত | ● জলাতঙ্ক ● পাইকগাছা ● ভ্যাকসিন