ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বাস্তবে কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ এবং সম্পন্ন কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার ও সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এলজিইডি পটুয়াখালী কার্যালয়।
এলজিইডি পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশ দুটি গত ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। নোটিশে পত্র পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবে সম্পন্ন না হওয়া কাজের বিপরীতে দেওয়া প্রায় ৯১ লাখ টাকার বিল ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুই প্রকৌশলী দুটি উন্নয়ন প্যাকেজের কাজ তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কাজের বিল, পরিমাপ বই (এমবি) ও প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা করে বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের অসংগতি পাওয়া যায়।
নোটিশ অনুযায়ী, CAFDRIRP/Patuakhali/VR/ER/W-35/2023-24 প্যাকেজের আওতায় মরিচবুনিয়া চাটুয়া স্লুইস-পূর্ব মরিচবুনিয়া হয়ে উত্তর বিরাজলা কমিউনিটি স্কুল সড়কের ৫ কিলোমিটার পুনর্বাসনের কাজ ছিল। অন্যদিকে, CAFDRIRP/Patuakhali/UNR/ER/W-36/2023-24 প্যাকেজের আওতায় লোহালিয়া ইউপিসি-ভূরিয়া বাজার-দারান্দি লঞ্চঘাট হয়ে মিয়ারহাট সড়কের ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং জৈনকাঠি ইউপিসি থেকে ভূরিয়া বাজার হয়ে এম. ধরান্দি কলেজ সড়কের ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার পুনর্বাসনের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এলজিইডির নোটিশে বলা হয়েছে, এসব প্যাকেজের কিছু কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও ‘Unspecified’ কাজের খাতে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, W-35/2023-24 প্যাকেজে প্রথম ও দ্বিতীয় চলতি বিল বাবদ মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, W-36/2023-24 প্যাকেজে প্রথম চলতি বিল বাবদ ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত বিলের পাশাপাশি, দুটি প্যাকেজে বাস্তবে সম্পন্ন না হওয়া কাজের বিপরীতে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়ার অভিযোগ করেছে এলজিইডি। নোটিশে বলা হয়েছে, W-35/2023-24 প্যাকেজে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা এবং W-36/2023-24 প্যাকেজে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা কাজ না করেই বিল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে।
মো. আতিকুর রহমানের নামে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি ওই দুটি প্যাকেজের কাজ তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট বিল ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাস্তবে সম্পন্ন কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে ‘প্রতীয়মান’ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশারের নামে দেওয়া নোটিশেও বলা হয়েছে, তিনি ওই দুটি প্যাকেজের কাজ তদারকি করেন এবং ঠিকাদারের বিল পরিশোধের সুপারিশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিল ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাজের একটি অংশ বাস্তবায়িত না হলেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলজিইডির নোটিশে আরও বলা হয়েছে, দুটি প্যাকেজে ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে নিজেদের ও ঠিকাদারকে আর্থিকভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে যথাক্রমে প্রায় ৪৭ লাখ ও ৪৪ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তির কোনো তথ্য নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।
দুই প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন ঠিকাদারকে ‘Unspecified’ ও অতিরিক্ত বিল দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য দায়ী করে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে করা হবে না। নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ দুটির অনুলিপি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন), পটুয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনাকে কাল উত্তর লিখে (হোয়াটসঅ্যাপে) পাঠাবো।” অন্যদিকে, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৫:০৫ ২৫ বার পঠিত | ● পটুয়াখালী ● প্রকৌশলী ● শোকজ