ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যা, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং রোগবালাইয়ের কম আক্রমণের কারণে চলতি মৌসুমে আমন ধানের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। তবে আগাম তরমুজ চাষের বিস্তার ঘটায় জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৯৬ হেক্টর কম জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার আমনক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতে ধান পরিপুষ্ট হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিকল্পনায় বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে চলতি আমন মৌসুম।
বাউফলের কৃষক খলিলুর রহমান জানান, তিনি বিআর-২২ জাতের ৫০ শতক এবং বিআর-৫২ জাতের ৫০ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে প্রতি শতকে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২০০ টাকা। এর মধ্যে সার, কীটনাশক, হালচাষ ও জমিতে চারা রোপণের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোট ১০০ শতক বা এক একর জমি থেকে তিনি কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। উৎপাদিত ধান প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশা করছেন তিনি।
একই উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার সিকদার ও আবদুল বারেক হাওলাদার জানান, তাঁরা দুজন মিলে মোট চার একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করেছেন। প্রতি শতকে তাঁদের খরচ হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব খরচ বিবেচনায় চার একর জমি থেকে মোট ১৫০ থেকে ২০০ মণ ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। এতে ভালো লাভের আশাও করছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, চলতি বছর আমন আবাদের সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো জমির পরিচর্যা করতে পেরেছেন এবং ধানের ক্ষেতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল কম। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ধানের গাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বটকাজল গ্রামের কৃষক সোবাহান মীরা জানান, তাঁর এলাকার অধিকাংশ কৃষকের জমিতে ধানের অবস্থা ভালো। তবে ধান কাটার আগে ঝড় বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া চরের কিছু জমিতে আগাম তরমুজ চাষ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর আমনের আবাদ কিছুটা কমেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাউফল উপজেলা উপকৃষি কর্মকর্তা রেদোয়ান তালুকদার জানান, চলতি বছর উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার ৭২০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে। আগাম তরমুজ চাষের কারণে কিছু জমিতে আমনের আবাদ কমলেও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৪ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৯৬ হেক্টর কম জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ আমানুল ইসলাম জানান, জেলায় আগাম তরমুজ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমনের আবাদি জমি কমেছে। তবে একই সঙ্গে অন্যান্য মৌসুমি ফসলের চাষও বেড়েছে। পটুয়াখালীতে বিআর-২৩, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-৫১, বিআর-৪৯ ও বিআর-৫২ জাতের ধানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আবাদ হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় সাদা মোটা ও লাল মোটা জাতের ধান ৬৫ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তাঁর আশা, আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত না হলেও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের আবাদ বৃদ্ধি জেলার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৬:১২ ১ বার পঠিত | ● আগাম তরমুজ চাষ ● আমন ধানের ফলন ● পটুয়াখালী কৃষি ● পটুয়াখালীতে আমন ধান