ঢাকা সোমবার, ১ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: ঈদের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে সরকারি অফিস, আদালত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষজন। এবার ঈদের ছুটিতে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়া ঘরমুখি মানুষগুলো স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছেন, একইভাবে পুনরায় ফিরে যাওয়ার আসা তাদের। তবে নোয়াখালীর হাতিয়ায় অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরী ছাড়ার। যা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাকবিতন্ড হয়।
রোববার রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর (বন্ধ) করা অবস্থায় ফেরী ‘মহানন্দা’ তে এ ঘটনা ঘটে। যেখানে যাত্রীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরী মহানন্দা রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় ছেড়ে আসে। যেটি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। পরবর্তী ফেরী লোড আনলোড ও মাল-গাড়ি উঠানামা করতে সোয়া ১ঘন্টা সময় লাগে। সে হিসেবে ৭টার কিছুক্ষণ আগে বা পরে ফেরী চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে ফেরী ছাড়ে রাত প্রায় ৯টার সময়। বিকেল থেকে মোটরসাইকেল’সহ গাড়িগুলোর জন্য কাউন্টারে বুকিং নিলেও ফেরী আনলোড হওয়ার পর গাড়ি তুলতে দেওয়া হয়নি। এতে কর্মস্থল গামী মানুষ জন প্রচন্ড ঘরমে ভোগান্তিতে পড়ে।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন ফেরী ছাড়া হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ছাড়া হবে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য এতোগুলা মানুষ যদি কষ্ট করতে হয়, তাহলে উনি কেমন জনপ্রতিনিধি। তাছাড়া সঠিক সময়ে চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর ও জেলা শহর মাইজদী গিয়ে বাসে না উঠতে পারলে রাতের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। সারারাত বাস কাউন্টারে বসে থাকতে হবে, আবার আগামীকাল অফিসেও যাওয়া যাবে না।
ফেরী মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, ৫টা ৪০ মিনিটে আমাদের ফেরী নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। আনলোড ও লোডে গড়ে ৪০ মিনিট করে সময়ের দরকার হয়। আমাদের কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এমপি সাহেব আসবেন ফেরী ছাড়তে একটু দেরি হবে। তাই আমরা প্রথমে গাড়িগুলো উঠাতে দেয়নি। এনিয়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পরে রাত ৮টার পর আমরা চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসি। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনা ৪৫ মিনিট বা ১ ঘন্টা দেরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সাংসদ আবদুল হান্নান মাসউদ এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
তবে এই বিষয়ে সাংসদ হান্নান মাসুদ এর পক্ষে তাঁর অনুসারীরা সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোষ্ট করেন। তাতে তারা ফেরী ঘাটের অনিয়মের বিষয়ে তিনি ঘাট পরিদর্শনে গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। একটি গ্রুপ এই বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন বলে তারা প্রচার করেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০২:৫৬ ১৬ বার পঠিত | ● অপেক্ষ ● এমপি ● ফেরী ● ভেগান্তি ● হাতিয়া
----