ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• সমালোচনা সঙ্গী করেই সব ভাষা ও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন রাশমিকা • বিকিনি ও খোলামেলা পোশাকে আপত্তি রাশমিকার, পাশে বিজয় • কয়রায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে গুম-হত্যার হুমকি • ভালুকায় শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি, আহত ৭২ বছরের বাবা • কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অপেক্ষায় প্রাণ গেল দুই মাসের শিশুর • দুমকির পাঁচ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের • মানিকগঞ্জে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের দুইজন নিহত, সেলফি চলাচল বন্ধ • নয় বছর পর কুয়াকাটায় দুই দিনের পর্যটন কার্নিভাল শুরু কাল • আ. লীগ ও ‘গুপ্ত দল’ বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত: রিজভী • আড়াইশ বছরের আমুয়ার দশোহরা উৎসবে নদীমোহনায় হাজারো মানুষের মিলনমেলা


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » নবীনগর ভূমি অফিসে অনিয়মের আখড়া, গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা

নবীনগর ভূমি অফিসে অনিয়মের আখড়া, গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা


মাহাবুব আলম লিটন,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


নবীনগর ভূমি অফিসে অনিয়মের আখড়া, গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (খারিজ) করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ফি মাত্র ১,১৭০ টাকা হলেও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি ও আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগ উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। অবশ্য এ অভিযোগ তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে খারিজের আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া কিংবা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আজ মঙ্গলবার (২১/০৭) স্থানীয় কিছু ভুক্তভোগীদের সাথে কথা হয়, ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘লাউর ফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস আতিকুর রহমানের দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া নামজারি হয় না। নামজারির জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয় এবং অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র বিশেষে লাখ টাকাও আদায় করা হয়।

আজ মঙ্গলবার কথা হয় স্থানীয় কিছু ভুক্তভোগীদের সাথে, ওই এলাকার ভুক্তভোগী আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার জমি খারিজ করতে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে ওই ভূমিক কর্মকর্তা। আমার পাশের একটি জমির মালিকের কাছ থেকে খারিজ করে দেওয়ার নাম করে ১৮ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করেছেন। এরই মধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বাকি আট হাজার টাকা কাজ শেষ হলে নেবেন।

গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী হতদরিদ্র পান দোকানদার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, ওই ভূমি কর্মকর্তা ১৫ শতক জায়গা খারিজ করতে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। এই জায়গা খারিজ করতে গিয়ে তার ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ফেরী করে পান বিক্রি করেন ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে এই অনিয়ম চলছে।

এ বিষয়ে জানতে পরিচয় গোপন করে ওই ভূমি অফিসে গিয়ে আতিকুর রহমান কে একটি খারিজ করতে কত লাগবে জানতে চাইলে তিনি জানান ১০ হাজার টাকা লাগবে।

পরে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অফিসে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নেই তাই কাজের গতি একটু কম।জমি খারিজে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে লাইনটি কেটে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসে কর্মরত একজন জানান, নায়েব আতিকুর রহমানের চাকরির জীবনের শেষ সময়ে এসে এখন তিনি ডাকাত হয়ে গেছেন। মোটা অংকের টাকা না হলে তিনি খারিজের ফাইল হাতে নেন না।

লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার ইউনিয়নের সহজসরল মানুষগুলোকে ঠকিয়ে লক্ষলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। তিনি আমার এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে একটি জমিরখারিজ করতে ৩০ হাজার টাকা দাবী করেন।আমি এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভূমি সেবাকে ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সরকারের নির্ধারিত ফি যদি ১,১৭০ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা কোন নিয়মে আদায় করা হচ্ছে? ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), খালেদ বিন মনসুর বলেন,জমি খারিজে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এই বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত পূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৩:০৬   ৪৪৭ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


● সাংবাদিক রুহুলের ওপর হামলার বিচার চেয়ে নবীনগরে মানববন্ধন
● ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটবল আনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই যমজ শিশুর
● হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ৩ পর্যটকের, নিখোঁজ ২
● নবীনগরে জমি দখলের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে, মাছ লুটের দাবি
● হাতিয়ায় দুর্গাপুজা উপলক্ষে বি এন পির পক্ষ থেকে ৩৪টি মন্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান



আর্কাইভ