ঢাকা শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
হবিগঞ্জ: আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ভাটি অঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর তীরে এক সময়ের দর্শকপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ‘মুন সিনেমা হল’ এখন পরিত্যক্ত এক স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছে। লঞ্চঘাট সংলগ্ন এই সিনেমা হলটি এক সময় ছিল এলাকার মানুষের প্রধান বিনোদনের স্থান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গ্রামগঞ্জের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সিনেমা দেখতে আসতেন। ঈদ, পূজা বা ছুটির দিনগুলোতে হলের সামনে থাকত উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন বিনোদন মাধ্যমের কারণে ধীরে ধীরে কমতে থাকে দর্শক সংখ্যা। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় এই ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলটি।
বর্তমানে সিনেমা হলটির ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালের রং উঠে গেছে, জানালার নকশাগুলোতে জমেছে ধুলা ও ময়লা। হলের সামনে এখন দেখা যায় কাঠের গুঁড়ি, গবাদিপশু ও স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজকর্মময় যা এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “এই হলটা ছিল আমাদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি। এখন এটা দেখে খুব খারাপ লাগে।”
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জহরলাল দাস বলেন, “আগে এখানে সিনেমা দেখতে না পারলে যেন আনন্দই পূর্ণ হতো না। এখন মোবাইল আর টিভিই সবকিছু দখল করে নিয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সময় গ্রামীণ সমাজে সিনেমা হল ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্র্মের বিস্তার এবং বিনোদনের ধরণ বদলে যাওয়ায় এসব হল টিকে থাকতে পারেনি।
উল্লেখ্য, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কুশিয়ারা, কালনীসহ বিভিন্ন নদীবেষ্টিত ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত । এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ ছিল এই সিনেমা হল।
আজ ‘মুন সিনেমা হল’ শুধু একটি পরিত্যক্ত ভবন নয়, এটি এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা,অন্তত এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ বা নতুনভাবে ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে তাদের অতীতের গল্প।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৪:০৯ ৫ বার পঠিত | ● আজমিরীগঞ্জ ● মুন সিনেমা হল ● হবিগঞ্জ
----