ঢাকা সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের চরদামুকদিয়া এলাকায় পুকুর সংস্কারের নামে চলছে দেদারসে মাটি হরিলুট। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এর ফলে হুমকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি ও সরকারি রাস্তাঘাট। অবিলম্বে এই মাটি কাটা বন্ধ না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভূমিধস ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহিরচর ইউনিয়নের চরদামুকদিয়া এলাকার ‘বাবলুর পুকুর’ সংস্কারের অজুহাতে দিন-রাত অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হামিদুল, রেজা ও আরিফসহ একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুকুর থেকে গভীর করে মাটি কেটে প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটা ও নিচু জমি ভরাটের উদ্দেশ্যে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ অমান্য করে এভাবে গভীর থেকে মাটি তোলার ফলে পুকুর সংলগ্ন বসতবাড়িগুলোর নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ধসে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা রাস্তাঘাটগুলো ইতিমধ্যে ভেঙে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ছড়াচ্ছে তীব্র ধুলাবালি, যাতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। রাস্তাটি পুরোপুরি ধসে গেলে এলাকার হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাটি কাটতে নিষেধ করলে উল্টো এই প্রভাবশালী চক্র নানামুখী হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিরুপায় হয়ে বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটানো এলাকাবাসী এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে এবং গ্রামীণ সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দাবি করছেন।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত বলেন, অবৈধভাবে মাটি খনন বা কোনো ব্যাক্তি মালিকানা জমি থেকে মাটি খনন করে প্রচলিত আইনে অন্য কোথায় বিক্রি করতে পারবে না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৬:১৩ ৩৯ বার পঠিত | ● ভেড়ামারা ● মাটি ● হরিলুট
----