ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাত গ্রুপ ও নুরজাহানপুর গ্রামে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে রিফাতের উপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করা হয়। এ সময় হামলাকারী প্রতিপক্ষ গুলিবিদ্ধ রিফাতকে অপহরন করে নিয়ে যায়। অবশেষে এর দুদিন পর মঙ্গলবার (১৬/০৬)রাতে গুলিবিদ্ধ রিফাত (২৮) এর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নরসিংদীর করিমপুর মেঘনা নদী থেকে নরসিংদী সদর থানার করিমপুর নৌপুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে। নিহত রিফাত থোল্লাকান্দি গ্রামের মৃত মোস্তাক আহমেদের ছেলে। নিহত রিফাতের স্ত্রী ও ৩ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজ বুধবার (১৭/০৬) নরসিংদী সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ এম আর আল মামুন বলেন,’মৃতের বোন রাতে এসে নিহত রিফাতকে তার ‘ভাই’ হিসেবে সনাক্ত করেছে। আজ বুধবার (১৭/০৬) পোস্টমটামে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের পোস্ট মর্টেম করার পর যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মৃতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’
আজ বুধবার বিকালেএই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো পোস্টমর্টেম শেষ হয়নি, পোস্টমর্টেম শেষ হলে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে জানান নরসিংদী সদর থানার করিমপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই স্বপন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে গত রোববার রাতে ওই এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী মনেক ডাকাতের লোকজন রিফাতের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি আহত হলে দুর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক একটি যানবাহনে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। রিফাতের ভগ্নিপতি শাহাদাত হোসেন সোহাগ জানান, মনেক ডাকাত ও তার লোকজন রিফাতকে গুলি করে অপহরণ করেন। রিফাত জীবিত না মৃত, তা বলতে পারছি না।
লাশ সনাক্তের পর এ বিষয়ে নিহত রিফাতের বোন মুক্তা বেগম বলেন,’আমার নিহত ভাই রিফাতের শরীরে প্রচুর গুলিসহ তার গলা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে বর্বোরচিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের পর এ বিষয়ে মামলা করবো।’ মুক্তা বেগম আরও জনান, নিহত রিফাতের স্ত্রী ও ৩ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
পুলিশের তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড মন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাত। যার বিরুদ্ধে নবীনগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ৩০টিরও বেশী মামলা রয়েছে তার বাড়ি সলিমগঞ্জের পাশ্ববর্তী বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামে। এবং তার প্রতিপক্ষ পুলিশের এসপি পদ মর্যাদার এক কর্মকর্তার ছোট ভাই এমরান মাস্টার। তার বাড়ি বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর উপজেলার ব্যবসা সমৃদ্ধ সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি ইউনিয়ন দুটো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
উল্লেখ্য, ওই দুইটি গ্রুপ এক সাথেই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ডাকাতি ও মাদকের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মাঝে আভ্যন্তরিন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।এই বিরোধের জের ধরেই এই সকল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকার সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ১ নভেম্বর এমরান মাস্টারের বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী খ্যাত এই রিফাতের গুলিতেই বড়িকান্দি গণিশাহ বাজারে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (২৮) সহ দুজন নিহত হন। ওই ঘটনার জের ধরে’ মনেক ডাকাতের দুই ছেলে সুমন ও নোমানের নেতৃত্বে মনেক বাহিনীর ২০/২৫ জন সশস্ত্র লোক গত রবিবার দুপুরে মধ্যরাতে বাড়াইল দাস পাড়ায় (হিন্দু পাড়া) মাদক বিক্রেতা রিফাতের সমর্থক জনৈক সামিরের বাড়িতে অতর্কিতে গুলি করতে করতে হামলা চালায়। সেসময় রিফাত (২৮) সামিরের ঘরেই অবস্থান করছিলেন।
অবশেষে ২ দিন পর মঙ্গলবার নরসিংদীর করিমপুল এলাকায় মেঘনা নদী থেকে রিফাতের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘রিফাতের লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি আমরাও শুনেছি। এখন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনগর থানায় মামলা হলে, আমরা প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব। যেই থানায় লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেখানেও নিহতের পরিবার মামলা করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।’
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৯:০৩ ২১ বার পঠিত | ● অপহরন ● গুলি ● নবীনগর ● যুবক
----