ঢাকা রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জের হালিমা বেগমের (২১) বিয়ের ৪ মাসের মধ্যে যৌতুকের জন্য প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে| নিহত যুবতীর বাবার লোক জন লাশ আনার জন্য ¯স্বামীর বাড়িতে গেলে ¯স্বামীর পক্ষের লোকজন হামলা করে ইউপি সদস্যসহ ৫জন কে আহত করেছে| এসময় সন্দেহভাজন আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে| মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে| এ ঘটনা নিয়ে নবীগঞ্জ ও পাশ^বর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার মধ্যে তোলপাড় চলছে|
এদিকে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল বিরাজ করেছে| হালিমার পরিবারের জিম্মায় লাশ ময়না তদন্ত করে নবীগঞ্জের বাবা বাড়িতে দাফন করা হয়েছে| নিহত হালিমা জগন্নাথ পুর উপজেলার হাড়গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সুনু মিয়ার স্ত্রী| এদিকে হালিমার লাশ গতকাল সন্ধ্যায় তার বাবার বাড়ি নবীগঞ্জের পিটুয়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে|
জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়| পরে রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়|
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চার মাস আগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পিটুয়া আর্দশ্য গ্রামের আছাব মিয়ার মেয়ে হালিমা খাতুনের সঙ্গে সুনু মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়| বিয়ের ১০দিন পর সুনু মিয়া মালয়েশিয়া চলে যান|
স্বামীর পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলে হালিমার শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান তারা| ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন| পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে| কিন্তু হালিমা বেগমের বাবা ও মা জানান তাদের মেয়ে হালিমা মৃত্যূর ৩০ মিনিট আগে তাদের সাথে কথা বলেছে| ৩০ মিনিট পরে ¯স্বামীর বাড়ির লোকজন মোবাইল করে বলেন মেয়ে আত্বহত্যা করেছে| আমরা খবর পেয়ে গেলে স্বামীর বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছেন| একজনকে আটক করা হলে তাকেও তার আত্বীয় স্বজন জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়|
নিহতের বাবা আসাব মিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য হালিমাকে নির্যাতন করতেন| স্বামী বিদেশে থাকলেও তার দেবর ননদরা তাকে মারপিট করতেন|
তার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে|
হালিমার মা নাজমা বেগম জানান, তার মেয়েকে স্বামীর বাড়ি লোকজন হত্যা করে লাশ খাটের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে|তার মেয়ে হালিমা মৃত্যূর ৩০ মিনিট আগে তাদের সাথে কথা বলেছে| ৩০ মিনিট পরে স্বামীর বাড়ির লোকজন মোবাইল করে বলেন মেয়ে আত্বহত্যা করেছে| আমরা খবর পেয়ে গেলে স্বামীর বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছেন| একজনকে আটক করা হলে তাকেও তার আত্বীয় স্বজন জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়
এদিকে, হালিমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করলে দুই পরিবারের মধ্যে বাগ&বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়| একজন আসামি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে দাবি করে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে|
এবিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ইউপি সদস্য সাহেল আহমদ জানান, আমরা খবর পেয়ে মেয়ের আত্বীয় ¯^জন ও আমাদের ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সহ ঘটনাস্থলে আসি| এসময় পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হালিমার দেবর ফজল মিয়াকে আটক করলে তার আত্বীয় স্বজনরা হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়| এসময় তারা আমাদের লোকের উপর হামলা করে এতে ৫ জন আহত হয়|
আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম, আমাদের উপর হটাৎ করে আক্রমন করা হয়েছে| আমাদের উপর হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে| আমরা লাশ আনার জন্য গিয়েছি আর পুলিশকে বলেছি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এমনটা করেছেন|
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দিন বলেন, মেয়ের পরিবারের লোকজন এসে ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়| পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ পুলিশকে হস্তান্তরে সহযোগিতা করা হয়|
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে| ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে| এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি| পুলিশের হামলা কথা অস্বীকার করেন| মারামারি হয়েছে সেই ভিডিও আমরা দেখেছি| হালিমার লাশ ময়না তদন্ত শেষে তার আত্বীয় স্বজন নিয়ে গেছেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৮:০৩ ২ বার পঠিত | ● গৃহবুধু ● নবীগঞ্জ ● মৃত্যু