ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
![]()
টাঙ্গাইল: ভূঞাপুরে মৃত ঈমান আলী শেখ ঘুরছেন দ্বারেদ্বারে। হতে পারছেন না ভোটার, নেই নাগরিকত্ব। ঘটনাটি ঘটিয়েছে নির্বাচন অফিস।
উপজেলার একজন জীবিত মানুষ ঈমান আলী। ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডের বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের নিচে বসে বিক্রি করেন পিঠা। তবুও সরকারি ভোটার তথ্যভান্ডারে সে ‘মৃত’। ফলে শুধু ভোটাধিকারই হারাননি, নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতেই এখন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে তাকে। ভুক্তভোগী মো. ইমান শেখের এমন দুর্ভোগ স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী ইমান আলী শেখ উপজেলার পৌর শহরের ফসলান্দি গ্রামের মৃত মাজম আলী শেখের ছেলে।
জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি ৯৩২১৯০৮৩৭৯৮০৬) ও ভোটার তালিকায় ইমান শেখকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি জীবিত, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন। সরকারি এই ভুলের কারণে গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি তিনি। নির্বাচন কর্মকর্তারা তাকে জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী তিনি মৃত। এরপর থেকেই তথ্য সংশোধনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করলেও এখনো সমাধান পাননি।
ইমান শেখ বলেন, “আমি জীবিত, অথচ সরকারি কাগজে আমাকে মৃত বানিয়ে রাখা হয়েছে। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে অফিসে অফিসে ঘুরছি। ভোট দিতে পারিনি। এখন যে কোনো সরকারি কাজেও সমস্যায় পড়ছি।”
স্থানীয়রা বলেন, একজন জীবিত মানুষকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এ ধরনের ভুল একজন নাগরিককে ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতার মুখে পড়বেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, ভুক্তভোগী অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে পুনরায় ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইমান শেখের তথ্য সংশোধন করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; কীভাবে একজন জীবিত মানুষকে সরকারি তথ্যভান্ডারে মৃত দেখানো হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নাগরিক এমন ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৫:৪৭ ২১ বার পঠিত | ● তথ্যভান্ডার ● ভূঞাপুর ● ভোটা ● সরকারি