ঢাকা    শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
খেলাধুলাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী শতভাগ জিপিএ-৫ দেখাতে ‘নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ সমালোচনা নয়, সমর্থন করুন: নেইমার পাঁচ বছর আগে ক্ষমতাগ্রহণ, যা বলছে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার ‘ককটেল টু’সহ ওটিটিতে আরও যা দেখবেন ৬ মাসে সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়েছে : রিজভী রাজপথ থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাবেক এমপি পুত্র মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ.লীগ নেতা রাসেল, পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা আলফাডাঙ্গায় লোডশেডিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্যের সাথে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম এর মতবিনিময় চাটমোহরে ধারালো অস্ত্রাঘাতে কুকুর হত্যার অভিযোগ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » জাতীয় » রাজপথ থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

রাজপথ থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


রাজপথ থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে পাড়ি দিয়েছেন বন্ধুর পথ। সহ্য করেছেন হামলা-মামলা, জেল-জুলুম। বিএনপির দুর্দিনে ছিলেন কান্ডারির ভূমিকায়। এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও এক বড় অধ্যায়ের সামনে। ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল একসময় ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। এর পর সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সেই পেশা ছেড়ে নির্বাচিত হন পৌরসভার চেয়ারম্যান। দায়িত্ব পালন করেছেন সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব এবং মন্ত্রীর। গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ ছেড়েছেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও ছাড়বেন শিগগিরই। ভোটাভুটি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কাঁধে নেবেন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব। তিনি যাবেন বঙ্গভবনে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। তাই এটাই মোটামুটি নিশ্চিত, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই নির্বাচিত হবেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতিতেমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী ও একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক। ’৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

পড়াশোনা শেষ করে মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর এসএ বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। পদত্যাগের পর তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান। ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন চলাকালে যোগ দেন বিএনপিতে। তিনি ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পাশাপাশি কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। তবে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর নভেম্বরে গঠিত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে মনোনয়ন পান। বগুড়া-৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি শপথ নেননি।

ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেমির্জা ফখরুল ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর এ দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৬ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাদের দুই মেয়ে– মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে সেখানেই শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট কন্যা মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

বারবার কারাবরণেও ছিলেন অটলগাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা, নাশকতামূলক কার্যকলাপ কিংবা বোমাবাজির অভিযোগে শতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে আদালতের বারান্দায় যেতে হয়েছে। বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে। একাধিকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয় তাঁকে। এর পরও বিএনপির দুর্দিনে হাল ধরেছিলেন শক্ত হাতে। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় দলের কান্ডারি হিসেবে ছিলেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে নেতৃত্বে অটল ছিলেন।রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুলকে অন্তত ১১ বার কারাগারে যেতে হয়েছে। জীবনের প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় কাটাতে হয়েছে কারাগারে। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় একাধিকবার কয়েক মাস করে তাঁকে বন্দি থাকতে হয়। এমনকি ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই একটি পুরোনো মামলায় তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে দলের বিভাগীয় সমাবেশের ঠিক আগের রাতে উত্তরার বাসভবন থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরের সমাবেশের পরদিন ভোরে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

কেবল আইনি বেড়াজাল বা গ্রেপ্তারই নয়, বহুবার রাজপথে সভা-সমাবেশ করতে গিয়ে টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং গাড়িবহরে হামলার শিকার হয়েছেন মির্জা ফখরুল। মামলা, নির্যাতন আর কারাবাসের পরও ধীরস্থির ও সহনশীলতার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এর মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন সজ্জন রাজনীতিবিদ।

কে হচ্ছেন মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি?রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় মহাসচিবসহ দলের সব পদে ইস্তফা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে, তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।  বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ ১৯টি। মোট শূন্য পদ রয়েছে সাতটি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৬:৫০   ৬ বার পঠিত  |   







জাতীয় থেকে আরও...


রাজপথ থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল
কে হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব
এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী
সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রদর্শনীতে মুজিব আছে, জিয়া নেই—জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যা, তারপরও প্রশ্ন



আর্কাইভ