ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: কোন ছাত্রী আসে না। প্রতিদিন আমি একাই আসি আর ঘুরি যাই। কোন ক্লাশও হয় না। ক্লাসে ১১ জন ছাত্রী ভর্ত্তি থাকলেও মাঝে মাঝে মিম আক্তার,মনিরা বেগম আসে। আর কেই আসে না। আপনি বলেন মাদরাসায় আসি কি হয়। বাবা মায়ের চাপে আসি। এটাকে কি মাদরাসা বলে। এভাবে আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন,৬ষ্ট শ্রেনীর শিক্ষার্থী আখি মনি।
৮ম শ্রেনীর আশরাফি বেগম বলেন, ইয়াসমিন ও ছাবিনা আক্তার আমরা ৩জন নিয়মিত আসি। মাঝে মধ্যে হুজুর ২/১টি ক্লাশ নেয়। এ মাদরাসায় ভর্ত্তি হয়ে জীবনটাই মাটি হয়ে গেল। কি করি গরীব মানুষ বাড়ীর কাছে মাদরাসা তাই ভর্ত্তি হয়েছি। গ্রামবাসিরা বলেন,বাস্তবে এখানে কোন শিক্ষার্থী নাই সব কাগজে কলমে বলে তাদের অভিযোগ । তারা ক্ষোভের সাথে আরো জানান,শিক্ষার্থী নাই অথচ মাদরাসাটি চলছে কি ভাবে আমরা বুঝি না। যেখানে শিক্ষার্থী নাই, খালি শিক্ষক আর কর্মচারী প্রতি মাসে তাদের বেতন দিেেচ্ছ কয়েক লাখ টাকা। এটা শিক্ষার নামে জনগনের টাকার অপচয় বলে জানান।
৩১ আগষ্ট সোমবার বেলা ঠিক ১২টা ৩০ মিনিট নিজাই খামার বালিকা মাদরাসায় গিয়ে দেখা গেল চারদিক শুনশান নিরবতা। নেই কোন শিক্ষার্থীর কোলাহল। বাইরে থেকে বুঝার উপায় নেই এটি শিক্ষা প্রতিষ্টান। ভিতরে ও নিবর নিশÍবদÍা বারান্দায় ৩টি মেয়ে হাটা হাটি করছে। জানতে চাইলাম তোমরা এখানে কি কর । তারা জানায় আমরা এখানে পড়ি। হুজুর ক্লাসে আসে না,তাই খেলছি। জানতে চাইলাম আর ছাত্রীরা কই। তারা জানান, আর কেউ আসে না।
মাঠে বড় ঘাস ও ভিতরের পরিবেশ দেখলেই খুব সহজে বুঝা যায় শিক্ষার্থীর দন্যতা কতটা তীব্র। অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা মিলল ১২ থেকে ১৫ জন হুজুর বসে বসে গল্প করছেন। আছেন মাদরাসার সভাপতিও। সুপারের কাছে জানতে চাইলাম মাদরাসায় শিক্ষার্থী নাই কেন? কেউ কোন উত্তর দিচ্ছিলেন না। আবার জানতে চাই ইতি পুবে আর দুবার এসে ৫/৬ জন শিক্ষার্থী দেখতে পেয়েছি।
আজ দেখলাম আরো কম। সুপার মাথা নিচু করে বললেন গ্রামের প্রতিষ্টান মেয়েরা আসতে চায় না। মাঝে মধ্যে হোম ভিজিট করি তখন কিছুদিন আসে তাও সবাই আসে না বলে জানালেন। দাখিল মাদরাসায় এফতেদায়ীসহ ১০টি ক্লাশ রুম থাকার কথা কিন্ত রুম আছে মাত্র ৫টি। এফতেদায়ীর কোন কক্ষ নাই। একজন শিক্ষার্থীও নাই। কিন্তু এফতেদায়ী শাখার ৪ জন শিক্ষক আছেন বেতন পাচ্ছেন নিয়মিত।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদরাসাটি ১৯৮৩ সালে স্থাপিত হয়। শিক্ষক কর্মচারী আছেন ২১ জন। ভর্ত্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫৭ জন। ৯৬ জন উপবৃত্তি পান। ২০২৩ সালে দাখিল পাশ করেছে ৫জন, ২০২৪ সালে দাখিল পাস করেছে ৩ জন ও ২০২৫ সালে পাশ করেছে ৪ জন। অথচ শিক্ষা পরিপত্র অনুযায়ী প্রতি বছর কম পক্ষে ১১ জন পাস করতে হবে। পর পর ৩ বছর নির্ধারিত সংখ্যার কম পাস করলে শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ করার নিয়ম থাকলেও এ প্রতিষ্টানের ক্ষেত্রে তা কার্যকরী হচ্ছে না। বেতন ভাতা পাচ্ছেন নিয়মিত।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুব অবাক হই, যেখানে ছাত্রী নাই বছরের পর পর সেখানে মাদরাসা চলে কি করে। গ্রামবাসি কেউ বলতে পারবে না। মাদরাসায় কোন দিন বেল বাজার শব্দ শুনেছেন। ৮/১০ জনের বেশী শিক্ষার্থী কোন দিন দেখা যায়নি। শিক্ষকরাও ঠিকমত আসে না। তাহলে শিক্ষকরা বেতন পায় কেমন করি। মাদরাসাটি যেন সব আইনের উর্দ্ধে। তদন্ত করে মাদরাসাটি বন্ধ করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তার।
মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অবিভাবক আকবর আলী বলেন,অত আইন জানি না। মিটিং হয় তাতে খালি সই দেই । এমনি দেখি তো তেমন ছাত্রী নাই। মিটিংএ বলি ছাত্রী নাই, ছাত্রী বাড়ান। কিন্ত অবস্থা আজও যা কালও তা। এখানে ছাত্রীর চেয়ে শিক্ষক বেশী এমন সরল উক্তি তার।
ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আব্দুল গফ্ফার শিক্ষার্থী অনুপস্তিতির নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি এখানে নুতন যোগদান করেছি। চেষ্টা করছি উপস্থিতি বাড়ানোর। সে লক্ষে হোম ভিজিট করছি তবুও উপস্থিতি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে এখানে বাল্য বিয়ের প্রবনতা বেশী। এফতেদায়ী শাখার শিক্ষক আছে শিক্ষার্থী নাই এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কক্ষ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশী এ প্রশ্নের উত্তর দেননি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি(সাবেক সুপার) মোহাম্মদ আলী বলেন,আমি দুএক দিন পর পর আসি এবং ছাত্রীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর তাগিদ দিচিছ। শিক্ষকরা সে চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থী নাই, নিদিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী দাখিল পাশ করছে না তবুও কেন বিল দিচ্ছেন্ তার উত্তরে বলেন, বিল বন্ধ করার এখতিয়ার আমার নাই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারঃ) মো.সাজ্জাাদ হেসেন বলেন,আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। এখনও সব প্রতিষ্টান দেখা হয়নি। অভিযোগটি মারাক্তক আমি প্রতিষ্টাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিব বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন,এমন ধরনের প্রতিষ্টনের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটির সত্যতা পাওয়া গেলে বেতন বন্ধ করা হবে কোন ভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:০৫:৩৭ ২ বার পঠিত | ● উলিপুর ● শিক্ষক ● শিক্ষার্থী