ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: কাউখালীতে ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সন্ধ্যা, কচা ও কালীগঙ্গা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ। এতে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তীব্র আকার ধারণ করেছে, আর যোগান কম থাকায় হু-হু করে বাড়ছে দাম। আকাশছোঁয়া দামের কারণে জাতীয় এই মাছটি এখন সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয়দের মতে, সাধারণত আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশের আসল ভরা মৌসুম। এ সময় নদীগুলোতে মাছের প্রাচুর্য থাকার কথা থাকলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় একদিকে জেলেরা হতাশ, অন্যদিকে বাজার দরে দিশেহারা ক্রেতারা।
বাজারে মাছ কিনতে আসা রিকশাচালক লিটন হোসেন তাঁর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ইলিশ মাছ এখন শুধু ধনী আর বিত্তবানদের খাবার হয়ে গেছে। আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে এত টাকা দিয়ে ইলিশ কিনে খাওয়া স্বপ্ন। আগে মাঝে মধ্যে কিনতে পারলেও এখন বাজারে এসে শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর উপায় থাকে না।
আরেক ক্রেতা মোস্তফা আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাছের যে অবস্থা, আমাদের সন্তানরা হয়তো ভবিষ্যতে বাজারে ইলিশ দেখবে না, শুধু বইয়ের পাতায় পড়বে। এখন থেকেই জাটকা ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ইলিশ সংরক্ষণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
দক্ষিণ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী জানান, নদীর খরা মাছের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, জেলেরা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে নদীতে নামেন। আশা ছিল ভরা মৌসুমে ভালো ইলিশ পেলে আগের দেনা-পাওনা শোধ করা যাবে। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় ব্যবসাও মন্দা, আর জেলেরা এখন ঋণের বোঝার নিচে পিষ্ট হচ্ছেন।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। উল্টো নৌকা চালানো, জ্বালানি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ উঠাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ইলিশের পেছনে শ্রম ও পুঁজি ঢেলে লোকসানের পাল্লাই ভারী হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন ও বিচরণ মূলত নদীর পানির প্রবাহ, পরিবেশগত পরিবর্তন, খাদ্যের প্রাচুর্যসহ নানা প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এসব কারণে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট স্থানে মাছের বিচরণ কমবেশি হতে পারে।
সরকার নির্ধারিত সময়ে জাটকা ধরা বন্ধ রাখা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। মৎস্য বিভাগ জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে তৎপর রয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫১:০৫ ১ বার পঠিত | ● ইলিশ ● কাউখালী ● খরা