ঢাকা সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউরা-জয়খালী সড়কটি একসময় পাকা ছিল। এখন দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করত। দীর্ঘ ২০ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন অনেকটা গ্রামের কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হেঁটে চলাও দায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলা সদরের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
সদরের দক্ষিণ আউরা থেকে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার অংশে পাকা সড়কের কোনো চিহ্ন নেই। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ আউরা ব্রিজ থেকে কিছুটা সামনে যেতেই সড়কে বড় বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে। আবার কোথাও সড়ক মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ সড়কের অধিকাংশ কালভার্ট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে সময় নষ্ট হচ্ছে।
দক্ষিণ আউরা গ্রামের নান্টু জমাদ্দারের বাড়ির সামনে থেকে পঞ্চায়েত বাড়ি হয়ে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। উপজেলা সদরের অফিসপাড়া, থানা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। সড়কে মরহুম এনায়েত হোসেন খসরু পঞ্চায়েত বাড়ির উত্তর পাশের এবং আবুল কালাম হাওলাদারের বাড়ির পূর্ব পাশের দুটি কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় আউরা গ্রামের বাসিন্দা মারাফাত উল্লাহ সাদ্দাম জানান, তাঁদের এখান থেকে উপজেলা সদর ও জেলায় যেতে এই সড়ক ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। রাস্তাটি দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে আছে। কোনো রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য নিতে ভীষণ কষ্ট হয়। মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয় কাঁধে বা হাতে করে। সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
দক্ষিণ আউরা গ্রামের ইজিবাইক চালক কবির হোসেন জানান, তিনি যাত্রী নিয়ে কাঁঠালিয়া থেকে আমুয়া আসা-যাওয়া করেন। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় অটো নিয়ে বাড়ি যাওয়া যায় না। বাইপাস অথবা বটতলা বাজারে রেখে চার্জ দিতে হয়।
জয়খালী গ্রামের ইউপি সদস্য জায়দুল আলম খান জানান, সড়ক দিয়ে পায়ে হাঁটাও দায়। তাই অনেক সময় বাড়ির পেছন দিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। এতে অনেক সময় লাগে। ফলে সঠিক সময়ে সেবাপ্রার্থীরা সেবা পাচ্ছেন না।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. নুরুজ্জামান সিকদার জানান, ২০০৪ সালে দক্ষিণ আউরা থেকে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এলজিইডি সড়কটি পাকাকরণ করে। এরপর প্রায় দুই যুগ পার হলেও কোনো সংস্কার না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা জানান, এ সড়কের ৪০০ মিটার অংশের টেন্ডার হয়েছে। সড়কের বাকি অংশ প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য স্টিমেট করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, টেন্ডার হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৯:০৭ ৪ বার পঠিত | ● কাঁঠালিয়ায ● বেহাল ● সড়ক