ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভোলার চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক এবং চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১৩ মিনিটে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নিজের ফেসবুক আইডিতে পরপর দুটি স্ট্যাটাস দেন। একটিতে তিনি লেখেন, ‘আমাকে হারানোর সবচেয়ে সহজ উপায়—আমাকে অসম্মান করা। অন্যায় সহ্য করতে পারি, অবহেলাতেও ফিরে আসতে পারি। ভালোবাসার জন্য অনেক কিছু মেনে নিতে পারি। কিন্তু আত্মমর্যাদায় আঘাত করলে—আমি নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাবো। যেভাবে ইতিহাস হারিয়ে যায়, যেভাবে মায়ের কোল থেকে হারিয়ে যায় ছোট্ট শিশু। আল্লাহ সহায়, আল্লাহ উত্তম বিচারক’।
অন্য পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কারও সম্মান রক্ষার জন্য কখনও নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দেবে না। একদিন সে এসে আপনাকেই বিলীন করে দেবে’।
নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি থাকাকালে লালমোহন পৌরসভার বাসিন্দা ও তৎকালীন চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী নাহিদা পারভীনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাহমুদের প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও পরে তিনি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। একইভাবে নাহিদা পারভীনও প্রথম স্বামীর ঘরের একটি সন্তান রেখে স্বামীকে তালাক দেন। এরপর ২০২৩ সালে তারা দুজন দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর থেকে নাহিদা পারভীন মাহমুদকে নিয়ে লালমোহন পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দ্বিতীয় স্ত্রী মাহমুদকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না বলেও অভিযোগ করেন তার বাবা। প্রায় তিন বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছিলেন। তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, শুক্রবার সকালে তার পুত্রবধূ নাহিদা মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেন, তার ছেলে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে এখন নাটক করছে নাহিদার পরিবার।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদের স্ত্রী নাহিদা পারভীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। নাহিদা পারভীন বর্তমানে তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অফিস সহকারী পদে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩২:২৬ ৫ বার পঠিত | ● উদ্ধার ● চরফ্যাসন ● ঝুলন্ত মরদেহ ● দলিল ● লালমোহন ● লেখক