ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মিলল তরুণীর লাশ, স্বামীসহ আটক ৩ • যুক্তরাজ্যের সৈকতে শত শত নীল সামুদ্রিক প্রাণী, জেলিফিশ ভেবে ভুল করছেন অনেকে • প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট • জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি, ফ্যাসিবাদ ফিরলে নিতে হবে দায় • রাতে নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাবো’ স্ট্যাটাস,সকালে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ • মেয়াদপূর্তির আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনল সরকার • মানসিক সুস্থতাকে স্বাস্থ্যনীতিতে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী • রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি জনগণের স্বার্থবিরোধী: রিজভী • ভবন সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলছে সাহরাইল ডাকঘর • লালমোহনে বিশ্ব ডিম দিবসে পুষ্টিগুণ প্রচারে র‍্যালি ও আলোচনা সভা


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » রয়টার্স এক্সক্লুসিভ আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নোবেলজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন উত্তেজনা

রয়টার্স এক্সক্লুসিভ আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নোবেলজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন উত্তেজনা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


রয়টার্স এক্সক্লুসিভ আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নোবেলজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আদালতটির সাবেক এক বিচারক নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন। এর ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে আদালতটির বিরোধিতা করে আসছে। এর আগেও আইসিসির প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তাঁর প্রশাসন।

তবে আজকের নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বিস্তৃত। এর আওতায় আইসিসিকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া কোম্পানিগুলোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।…এ কারণে আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই দুর্বৃত্ত আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে। তাদের সম্পদের পথ বন্ধ করা হবে এবং কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া হবে।’

আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার ‘নিন্দা করা উচিত’। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য।…আমাদের সব মামলা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে।’

হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, না হলে আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) আইসিসির অস্তিত্ব শেষ করে দেব।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কঠোর সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন।

অতীতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত করেছিল আইসিসি। যুক্তরাষ্ট্র ওই তদন্তের বিরোধিতা করেছিল। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তদন্তটি বন্ধ করে দেয়।

আইসিসির সদস্যদেশ ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশই এর সদস্য। ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক আইসিসির সদস্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অতীতে প্রকাশ্যে আইসিসির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। আদালতটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে, যে দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো—দুই জোটেরই সদস্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই আজ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক ছিলেন।

নোবেল কমিটি বলেছে, পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা বিশ্বকে একটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে চেয়েছে। তা হলো, বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাধারণত মার্কিন কোম্পানিগুলো কাজ করতে পারে না। এর ফলে ব্যাংকগুলো হিসাব বন্ধ করতে পারে। বিমা কোম্পানি সেবা বন্ধ করতে পারে। সফটওয়্যার কোম্পানিও সহযোগিতা স্থগিত করতে পারে।

নোবেল কমিটি আরও বলেছে, ‘যে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পান, তা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা এমনভাবে আরোপ করা হয়েছে, যাতে আইসিসি ও এর সদস্যদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি দূর করার উদ্যোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে আদালতের কিছু কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স দিয়েছে। এর ফলে আইসিসির টেলিযোগাযোগ ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত কিছু লেনদেন করা যাবে। পেনশনের অর্থ পরিশোধ এবং আদালতের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনও এর আওতায় পড়বে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও আইসিসির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেগুলো তুলে নেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দুর্বল করাই এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য।…আমাদের সব মামলা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে।

আদালতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় আইসিসির কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁরা অফিসের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের পরিবর্তে ওপেন সোর্স বা উন্মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেন। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার জন্যও নতুন ব্যবস্থা নেন।

আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিল চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি ‘ব্লকিং মেকানিজম’ বা প্রতিরোধমূলক আইনি ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিজ দেশের সীমানার বাইরেও যে প্রভাব ফেলতে পারে, তা থেকে ইউরোপের দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

আইসিসির সদস্যদেশ ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এর সদস্য। ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক আইসিসির সদস্য নয়।

মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল, আইসিসি এবং আদালতটির প্রতিষ্ঠাকালীন রোম সংবিধির (রোম স্ট্যাটিউট) সদস্যদেশগুলো ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করবে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপে বিলম্বও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

রুবিও বলেন, ‘হয় আইসিসি তার হুমকি বন্ধ করবে, না হলে আমরা আইসিসির অস্তিত্ব শেষ করে দেব।…আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা, যাদের অনেকে আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর নির্ভরশীল, তারা এই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এই পদক্ষেপ এমনভাবে সাজিয়েছি, যাতে সদস্যদেশগুলো আলোচনার সুযোগ পায় এবং আমাদের উদ্বেগের সমাধান দিতে পারে।…এসব প্রচেষ্টা সফল না হলে আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেব।’

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১:১৬:০৭   ৩ বার পঠিত  | ●   ●







আন্তর্জাতিক থেকে আরও...


● যুক্তরাজ্যের সৈকতে শত শত নীল সামুদ্রিক প্রাণী, জেলিফিশ ভেবে ভুল করছেন অনেকে
● প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট
● রয়টার্স এক্সক্লুসিভ আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নোবেলজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন উত্তেজনা
● টেনেসিতে ২০০ বছর পর প্রথম নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা
● বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র-চীন



আর্কাইভ