ঢাকা    সোমবার, ১ জুন ২০২৬
শিরোনাম


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » পদ না পেয়ে দেওয়ায় বিএনপির সম্পাদক লাঞ্চিত, মামলা নেননি পুলিশ

পদ না পেয়ে দেওয়ায় বিএনপির সম্পাদক লাঞ্চিত, মামলা নেননি পুলিশ


নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬


পদ না পেয়ে দেওয়ায় বিএনপির সম্পাদক লাঞ্চিত, মামলা নেননি পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগরে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতি পদের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ উঠেছে।মাহাবুবুর রহমান নামের ওই সভাপতি ‘পদপ্রার্থী’ এক পর্যায়ে ‘জুতা’ হাতে সেক্রেটারীর দিকে তেড়ে যেতেও দেখা গেছে। গত রবিবার (৩১/০৫) সন্ধ্যায় উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভুক্তভোগী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম এ ঘটনায় রাতেই নবীনগর থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী মামলা নেননি বলে অভিযোগ করেন। অফিসার ইনচার্জ এর মামলার না নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সাংসদের হাত রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুনুর রশিদ দাবি করেন।

সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমানের দাবী কমিটি অনুমোদনের জন্য সাধারণ সম্পাদককে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি পূরণ না করায় কমিটি অনুমোদন দেননি। অবশ্য নাজমুল করিম চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামের কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুন অর রশিদের বাড়ি থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মাহাবুবুব রহমানসহ কয়েকজন তার পথ রোধ করে দাড়াঁন। এবং কমিটি অনুমোদন বিষয়ে নাজমুল করিমের কথা কাটাকাটি হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাজমুল করিম মাহাবুবুর রহমানকে ধাক্কা দেন । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহাবুবুর রহমান নিজের পা থেকে জুতা খুলে নাজমুল করিমের দিকে তেড়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে লাঞ্চিত করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সূত্র জানায় , উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদ প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে গত ২০২৫ সালের ১ জুন ইউনিয়ন সভাপতির ওই শূন্যপদে বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ‘সভাপতি’র দায়িত্ব দিয়ে দলীয় এক চিঠিতে সাক্ষর করেন দলের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান।ওই পদে মাহাবুবুর রহমানকে স্থলাভিষিক্ত করার সভাপতির সুপারিশকে অগ্রাহ্য করে দীর্ঘ এক বছর হতে চলেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম কমিটি অনুমোদন দেননি।

এ বিষয়ে মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমাকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে এক বছর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, বর্তমান এমপি মান্নান ভাই দলীয় এক চিঠিতে আমাকে ঐ পদে স্থলাভিষিক্ত করে অনুমোদন দেন। কিন্তু অর্থলোভী সেক্রেটারী নাজমুল করিম তার সাক্ষরের (অনুমোদন) জন্য আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।

আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত একটি বছর ধরে আমার ‘পদ’ টি তিনি আটকে রাখেন।
মূলত আজ তিনি এলাকায় আসলে এ নিয়েই তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমার সঙ্গে মারমুখি আচরণ করেন। এসময় আমাদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। তবে জুতা হাতে তাকে মারতে তেড়ে গেছি, এ অভিযোগ সত্য নয়। তিনি জেলা যুবদলের সদস্য দাবি করে বলেন, দলের দুঃসময়ে দলের সকল প্রকার কার্যক্রমে আমার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রভাকাণ্ডা ছাড়ানো হচ্ছে।

এদিকে এ বিষয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম বলেন, ‘দলীয় চিঠিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ বিষয়ে সাক্ষর করলেও, সাংগঠনিক বিধি মোতাবেক কমিটি না হওয়ায়, আমি কমিটি’র সভাপতি পদে মাহাবুবুর রহমানকে অনুমোদন দেইনি।’তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার জের ধরেই আমাকে মাহাবুবুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আচমকা সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণপূর্বক ওই চিঠিতে আমার স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি এমপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, মামলা না নেওয়ার ও এই ঘটনার পিছনে একজন হাত রয়েছে তা সকলে জানেন।

কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক এম কে মামুনুর রশিদ বলেন,নাজমূল রাতেই লাইভে বলেছেন, মামলার না নেওয়ার ব্যাপারে ওসি’র প্রতি এমপির নির্দেশ ছিল। তিনি সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক বিধি উপেক্ষা করে এভাবে কাউকে কোন পদে স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন না।তাছাড়া মাহবুবুর কোন ওয়ার্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কোন কমিটিতেই নেই। জেলা কমিটি থেকেও বহিস্কৃত। এটা সম্পূর্ণটা গঠনতন্ত্রের বিরোধী।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, “কমিটি অনুমোদনের পর প্রবাসে অবস্থান করায় ২০১৮ সালের শেষের দিকে একসঙ্গে ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ওই তালিকায় মাহাবুবুর রহমান ছিলেন কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত নই।”

এ ব্যাপারে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী মামলার না নেওয়ার এমপির নির্দেশ এর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,মামলা না নেওয়া কোন সুযোগ আমাদের নেই।ঘটনা যা ঘটেছে তা আপনারা সবাই জানেন। আপনাদের মিডিয়ার কল্যানেই আমরা ঘটনা জেনেছি। নাজমুল সাহেব হামলার ঘটনা এড়িয়ে অপহরণের ঘটনায় মামলা করতে চেয়েছিলেন তাছাড়া শাহআলম নামে একজনকে বাদী করেছেন কিন্তু ওই কথিত বাদী থানায় উপস্থিত ছিলেন না। বাদী অনুপস্থিত থাকলেতো আমরা মামলা নিতে পারি না। থানার মামলা মোকদ্দমা বিষয়ে এমপি স্যার কখনও হস্তক্ষেপ করেন না।শুধু তাই না তিনি তার দলের কোন নেতা/কর্মীদেরও থানায় আসতে নিষেধ করেছেন। কোন নেতা/কর্মী কোন সুপারিশ নিয়ে থানায় আসেন না,সেটা আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ অড্যাভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, এ ব্যাপারে দলীয় ফোরাম থেকে কোন অভিযোগ পত্র বা মৌখিকভাবে কেউ আমাকে জানায়নি, আমি ফেসবুকের মাধ্যমে অবগত হয়েছি, শিবপুর ইউপি কমিটির নেতৃবৃন্দ আমার কাছে এসেছিলেন, আমি সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি যথাযথ ব্যবস্থা নেব। মামলার নেওয়া ও না নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণটাই থানার এখতিয়ার, আপনারা জানেন আমি এসব বিষয় হস্তক্ষেপ করি না। আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিষেধ করেছে থানায় না যেতে। কমিটির বিষয়টি বছর খানেক আগের ঘটনা।এটা বিধি সম্মতভাবেই করা হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছেন, দলের দুঃসময় তারা কোথায় ছিলেন?দলের দুঃসময়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদেরকেই মূল্যায়ন করেছি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১০:৩০   ৭ বার পঠিত  |         

----





চট্রগ্রাম থেকে আরও...


পদ না পেয়ে দেওয়ায় বিএনপির সম্পাদক লাঞ্চিত, মামলা নেননি পুলিশ
হাতিয়ায় এমপির জন্য দুই ঘন্টা ফেরীর অপেক্ষ,ভোগান্তিতে ঘরমুখি মানুষ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য
হাতিয়ায় প্রায় ১ লাখ পরিবার পেল ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চাল
হাতিয়ায় নদীর তীরে ঘুরতে গিয়ে কৃষক পেল ২০ কেজি ওজনের কোরাল মাছ



আর্কাইভ