ঢাকা রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরগুনা: আমতলীর পায়রা নদী থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া হয়েছে। লাশটি আমতলী সরকারী আরমান খোরশেদ মডেল পাইলট হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাভেদ ইমনের (১৫)। সে উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চরকগাছিয়া গ্রামের আব্দুল আউয়াল প্যাদার ছেলে। গত ২৬ জুলাই বিকেল ৫টায় নিখোঁজ হয় জাভেদ ইমন। গত ২৯ জুলাই আমতলী পায়রা নদীর মধ্য আরপাঙ্গাশিয়া খাল থেকে অর্ধগলিত বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে রবিবার সকাল ১১ টায় আমতলী শহরে বিক্ষোভ করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, নিহত জাভেদ ইমন (১৫) আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চরকগাছিয়া গ্রামের আব্দুল আউয়াল প্যাদার ছেলে। সে গত ২৬ জুলাই বিকেল ৫টায় নিখোঁজ হয়। নিখেঁজের পর আর তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ৪ আগস্ট নিঁখোজ জাভেদ ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদা আমতলী থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেন। পরের দিন ৫ আগস্ট আমতলী থানায় বেওয়ারিশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া লাশের পায়ের জুতা ও পরনের প্যান্ট দেখে সনাক্ত করেন এই লাশ তার ছেলে জাভেদ ইমনের। গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় স্থানীয়দেও নিকট থেকে খবর পেয়ে আমতলী থানা ও তালতলী থানা নৌপুলিশ আমতলীর পায়রা নদীর মধ্য আরপাঙ্গাশিয়া খাল থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে জাভেদ ইমনের লাশ উদ্ধার করে। পরের দিন ৩০ জুলাই বরগুনায় লাশের ময়না তদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে বরগুনার সরকারী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জাভেদ ইমন খুন হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পরার পর তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমতলী সরকারী আরমান খোরশেদ মডেল পাইলট হাইস্কুলের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রবিবার সকাল ১১ টায় আমতলী শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করে তাদের সহপাঠী জাভেদ ইমনের হত্যাকারী খুঁজে বের করে অপরাধীদেও ফাঁসির দাবী করেন।
আমতলী সরকারী আরমান খোরশেদ মডেল পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. বজলুর রহমান বলেন, জাভেদ ইমন আমার বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী। তার নিহতের খবর শুনে আমরা খুব মর্মাহত। আমরা তার হত্যাকারীদেও খুজে বের কওে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি।
নিহত জাভেদ ইমনের বড় ভাই ইমরান প্যাদা অভিযোগ করে বলেন, জাভেদ ইমন নিঁখোজ হওয়ার পর আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের যুগিয়া গ্রামের ফজলু বিশ্বাসের বখাটে মাদকাশক্ত ছেলে ছগির বিশ^াস (২৩) ২৮ জুলাই আমার হোয়াটস অ্যাপে কল দিয়ে আমার ভাই জাভেদ ইমনের নিকট ১০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে দাবী তা পরিশোধে দাবী জানান। এভাবে ২৯ তারিখ সকালেও ফোন দিয়ে ওই টাকা পরিশোধের দাবী করেন। এবং আমার বাবা আব্দুল আউয়াল প্যাদার নিকটও পাওনা টাকা দাবী করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরপাঙ্গাশিয়া যুগয়া গ্রামের কয়েকজন জানান, ছগির বিশ্বাস একজন মাদকাশক্ত ও বখাটে হিসেবে পরিচিত। জাভেদ ইমনের লাশ উদ্ধারের পর তাকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। সে বর্তমানে সে আত্মগোপনে রয়েছে।
নিহত জাভেদ ইমনের বাবা আব্দুল আউয়াল প্যাদা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মোর বাবা নিখোঁজ অইছে মোরা অনেক খোঁজা খুঁজি করছি অর কোন সন্ধান পাই নাই। মোগো বাড়ির ধারে গোনে যহন লাশ উদ্ধার করছে হেই লাশের বয়স কইছে ৩০ বছর মোরা হেলইগ্যা আরবেশী দেহি নাই। ওইডাই যে মোর বাবা হ্যা বোঝলেতো লাশ রাবইখ্যা দিতাম। ওওে মোর বাবা এই কথা বলতে বলতে তিনি আবার কান্নায় ভেঙ্গ পরেন। তিনি আরো বলেন, আমি ৫ তারিখ আমতলী থানায় মোর ছেলে নিঁখোজ এইয়া জানাইয়া থানায় জিডি করি। পরের দিন ৬ তারিখ থানায় যাইয়া বেওয়ারিশ লাশের প্যান্ট ও জুতা দেইখ্যা চিনতে পারি এডাতো আমার পোলার লাশ।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, গত ২৯ জুলাই আমতলীর পায়রা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বেওয়ারিশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া লাশটি জাভেদ ইমনের। তার পরিবারের পক্ষ থেকে সনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। মামলার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৩:২৯ ১১ বার পঠিত | ● আমতলী ● উদ্ধার ● লাশ