ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: ধানখালী ইউনিয়নের টিয়াখালী নদী লাগোয়া পশ্চিম লোন্দা গ্রাম। প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করা ৩০০ পরিবারের এ জনপদে আজও নির্মিত হয়নি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ। তাই বর্ষা মৌসুমে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামটি।
পাঁচ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে একটি নিচু বাঁধ তৈরি করলেও তা ঠেকাতে পারছেনা জোয়ারের পানি। শুরু থেকেই এ বাঁধ উপচে প্রবেশ করছে পানি। চলতি বছর বাঁধটির দুই স্থান ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ১০০ ফুটের অংশ। ফলে সামান্য জোয়ারে অবাধে পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। লোনা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বছরের পর বছর অনাবাদি পরে আছে ৩০০ একর ফসলি জমি।
স্থানীয়রা কলা গাছের ভেলায় চরে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন এবং পানি উন্নয় বোর্ড ও এলজিইডিতে একাধিক আবেদন করেও পায়নি স্থায়ী সমাধান। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি বাঁধ নির্মাণে একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। তাদের আওতাভুক্ত না থাকায় বাঁধ নির্মাণে ইচ্ছুক নয় কোনো দপ্তর। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পশ্চিম লোন্দা গ্রামের লাইলী বেগম বলেন, এ গ্রামে বাস করা এখন দুষ্কর হয়ে উঠেছে। অনেক সময় আমাদের বসত ঘরের মধ্যে পর্যন্ত পানি উঠে যায়। তখন আমাদের রান্নাবান্না বন্ধ থাকে। আমরা এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছি। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছি। তারপরও কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা কলাগাছের ভেলায় চড়ে মানববন্ধন-সংবাদ করেও কোনো সুরাহা পাননি। একই গ্রামের বেল্লাল হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডি কোনো দপ্তরই এখানে বাঁধ নির্মাণ করতে এগিয়ে আসেনি। আমরা বছরে পর বছর পানিতে ভাসছি। আমরা এখন আর দুর্ভোগ সইতে পারছি না। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁদ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহআলম বলেন, পশ্চিম লোন্দা গ্রাম আমাদের পোল্ডারের বাহিরে৷ এটা আমাদের আওতায় না। যার কারণে এখানে আমাদের কিছু করার নাই। ওই গ্রামে এলজিইডি চাইলে ক্ষুদ্র পানি সম্পদ প্রকল্পের আওতায় বাঁধ নির্মাণ করতে পারে।
কলাপাড়া এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা আমাদের কাজ নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বেরিবাঁধ নির্মাণ করলে তাদের অনুমতি নিয়ে আমরা সেখানে সড়ক পাকা করতে পারি। আর পশ্চিম লোন্দা গ্রামের সড়কটি আমাদের আইডিভুক্ত না।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, পশ্চিম লোন্দা গ্রামটি পরিদর্শন করে তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪১:৪০ ৩ বার পঠিত | ● কলাপাড়া ● জোয়ারে ● লড়াই