ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নবনিযুক্ত ৪ সদস্যের সাক্ষাৎ তালতলীতে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা, ১টি পিস্তল ও চাঁর রাউন্ড গুলিসহ আটক ৫ আ’ লীগের চারবারের এমপি সতীশ চন্দ্র রায় মারা গেছেন ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি’র কথা বললেন সিইসি প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি সিংগাইরে ভ্রাম্যমান আদালতে একজনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড সিংগাইরে গলায় ফাঁস নিয়ে স্কুল শিক্ষিকার আত্নহত্যা ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ জনের জেল- জরিমানা মাদরাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের ঘুষ নেওয়ার দাবি কাউখালীতে সেরা মৎস্য উদ্যোক্তাদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » মাদরাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের ঘুষ নেওয়ার দাবি

মাদরাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের ঘুষ নেওয়ার দাবি


তারিক লিটু,কয়রা ( খুলনা )
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


মাদরাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের ঘুষ নেওয়ার দাবি

খুলনা: কয়রায় একটি কওমি মাদরাসা থেকে আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা কয়রা থানায় তার নাতির মামাসহ দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে শিশুটির পরিবার। তবে পুলিশ সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশু কয়রার জামাআতুল আবরার ইসলামিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল। তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সে মাদরাসায় থেকে পড়াশোনা করত।

শিশুটির দাদা মো. জিয়াদ আলী গাইনের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসার শিক্ষকদের না জানিয়ে জাকারিয়ার মামা মেহেদী হাসানসহ দুজন মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করেন। পরে কয়রার বিভিন্ন বাজারে তাদের আটকের চেষ্টা করা হলেও তারা পালিয়ে যায়।

শিশুটির পরিবারের দাবি, পরে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম কয়রার থানার আমাদী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মেহেদী হাসানকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলেও পরে এক হাজার টাকা দেওয়ার পর এসআই মেহেদী হাসান ও কনস্টেবল ইয়াসিন শিশুটিকে উদ্ধারে যান।

তবে পুলিশ সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসআই মেহেদী হাসান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি টাকা নেননি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা শিশুটির অবস্থান জানতে পেরে একটি বাড়িতে যান। সেখানে জাকারিয়াকে তার মা ফাতেমা আক্তার রিতুর সঙ্গে পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।

শিশুটির মা ফাতেমা আক্তার রিতু বলেন, তার সঙ্গে তার স্বামীর বনিবনা না থাকায় তাদের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে। তার সন্তানকে তার কাছ থেকে আলাদা করে মাদরাসায় রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সন্তানকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতেই তিনি তার ভাইয়ের সহযোগিতায় মাদরাসা থেকে জাকারিয়াকে নিয়ে আসেন।

রিতুর ভাষ্য, শিশুটিকে নিয়ে আসার সময় সে কান্নাকাটি করছিল। এ কারণে স্থানীয় লোকজন বিষয়টিকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে মনে করেছেন। তবে তার দাবি, তিনি সন্তানকে জোর করে অপহরণ করেননি; বরং নিজের সন্তানকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন।

এদিকে, শিশুটির দাদা জিয়াদ আলী গাইন (আজ ১৯ আগস্ট) বুধবার কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তার নাতিকে মাদরাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মেহেদী হাসানসহ দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “জোর করে অপহরণের বিষয়টি জানার পর আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। জানতে পারি, দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আমাদের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে নিয়ে গেছেন। এরপর আমরা শিশুটির খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি।”

অভিযোগের বিষয়ে আমাদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মেহেদী হাসান ও কনস্টেবল ইয়াসিনের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসআই মেহেদী হাসান বলেন, টাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা তা গ্রহণ করেননি।

তবে শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও দাদা জিয়াদ আলী গাইন দাবি করেন, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সদস্যকে বিকাশে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, শিশুটিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে শিশুটির মামার বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা জেলা পুলিশের ডি-সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমির হামজা বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫১:৪২   ৩ বার পঠিত  |         







খুলনা থেকে আরও...


মাদরাসা থেকে শিশুকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের ঘুষ নেওয়ার দাবি
ভেড়ামারায় অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল পরিবেশ অধিদপ্তর
সুন্দরবনে নদীতে পড়ে যাওয়া জাহাজের ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড
ভেড়ামারায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু, রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের আহ্বান
জুয়ার ফাঁদে তরুণরা, কয়রায় এজেন্ট সক্রিয়



আর্কাইভ