ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• আশুলিয়ায় আগুনে পুড়ল ১০ গোডাউন, আড়াই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে • হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মিলল তরুণীর লাশ, স্বামীসহ আটক ৩ • যুক্তরাজ্যের সৈকতে শত শত নীল সামুদ্রিক প্রাণী, জেলিফিশ ভেবে ভুল করছেন অনেকে • প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট • জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি, ফ্যাসিবাদ ফিরলে নিতে হবে দায় • রাতে নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাবো’ স্ট্যাটাস,সকালে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ • মেয়াদপূর্তির আগেই ১,৭১৬ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড কিনল সরকার • মানসিক সুস্থতাকে স্বাস্থ্যনীতিতে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী • রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি জনগণের স্বার্থবিরোধী: রিজভী • ভবন সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে চলছে সাহরাইল ডাকঘর


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

শুধু প্রতিবেশীদের বক্তব্য বা সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে না। কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের আগে তার নাগরিকত্ব প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ দিতে হবে। এমন পর্যবেক্ষণ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তিকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই ব্যক্তির আইনজীবী আদালতকে জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্য থেকে তৈরি সন্দেহের ভিত্তিতে গত ৮ আগস্ট থেকে তাঁর মক্কেলকে আটক রাখা হয়েছে।

ওই ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীকে আটক রাখা এবং দম্পতিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন। বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দপ্তর (এফআরআরও) ওই নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে আটক করা হয়নি।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচারপতি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে (আটক ব্যক্তি) নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেয়নি।’

কেন ওই ব্যক্তিকে দুই মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁর জাতীয়তা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ কেন ‘স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করেনি, তা জানতে চান বিচারপতি। ওই ব্যক্তির আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার মক্কেল দুই মাসের বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্য থেকে তৈরি সন্দেহই তাঁকে আটকের ভিত্তি।’

শুধু এ ধরনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কীভাবে কারও জাতীয়তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে আটক রাখা যায় না উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘১৯৭০-এর দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত পার হয়েছেন? তাঁদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?’ এরপর বিষয়টি উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত একাধিক রাজ্যের বিরুদ্ধে বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালত বা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছাড়াই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার ‘আটক, বাদ দেওয়া, বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করে। এ নীতির আওতায় বাংলাদেশি বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখা এবং সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

এদিকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া চার ভারতীয় নাগরিককে গত জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন নারী ও দুটি শিশু ছিল। প্রায় এক বছর বাংলাদেশে কাটানোর পর মালদার মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ‘তাই কাউকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারকে তাঁর নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুপ্রবেশকারী বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।’

রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, আটক ব্যক্তি জাল নথির ভিত্তিতে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে থাকতে পারেন।

এমন এক সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সামনে এল, যখন ভারতে জাতীয় পর্যায়ে নথিপত্র, নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভারতজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতেই লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় অনেক মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দেশ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এসআইআর প্রক্রিয়ার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে বিবেচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১:৫২:৫৪   ১ বার পঠিত  | ●







আন্তর্জাতিক থেকে আরও...


● যুক্তরাজ্যের সৈকতে শত শত নীল সামুদ্রিক প্রাণী, জেলিফিশ ভেবে ভুল করছেন অনেকে
● প্রতিবেশীর সন্দেহে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট
● রয়টার্স এক্সক্লুসিভ আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নোবেলজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন উত্তেজনা
● টেনেসিতে ২০০ বছর পর প্রথম নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা
● বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র-চীন



আর্কাইভ