ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
• কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু • লালমোহনে ৫০ লাখ টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, দরপত্রের আগেই উধাও শত শত গাছ • সিংগাইরে জুয়েলার্সে ৩৯ ভরি রুপা চুরি, নারীসহ আটক ৩ • কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার • নবীগঞ্জে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ • কঁচা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ • সুজানগরে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলোচনা সভা • উলিপুরে বিএনপির নেতাদের মধ্যস্থতায় সালিশের পর নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার • পোশাক বিতর্কে নারীবিদ্বেষকেই দুষলেন কৃতি শ্যানন • চৌদ্দগ্রামে বাজারে পিটুনিতে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » লালমোহনে ৫০ লাখ টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, দরপত্রের আগেই উধাও শত শত গাছ

লালমোহনে ৫০ লাখ টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, দরপত্রের আগেই উধাও শত শত গাছ


লালমোহন ( ভোলা ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


লালমোহনে ৫০ লাখ টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, দরপত্রের আগেই উধাও শত শত গাছ

ভোলা: লালমোহনের কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের দুই পাশ থেকে চার শতাধিক সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কাটা চললেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এ ঘটনায় লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তারহাট থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এ জন্য সড়কের পাশের কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে ইউএনও উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে কাটার উপযোগী গাছের সংখ্যা ও সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেন।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা ও সেগুলোর দরপত্রমূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে গাছগুলো বন বিভাগের মালিকানাধীন নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এ ঘটনায় রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং তাঁর সহযোগী মাসুম বিল্লাহর নাম উঠে এসেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। এসব গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছগুলোর অধিকাংশ রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কিছু গাছ স্থানীয় মো. মনিরের স-মিলে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে।

কাটা গাছের চিহ্ন আড়াল করতে অনেক গাছের গোড়া সড়কের চলমান কাজের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কিছু গাছ গোড়াসহ উপড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় স-মিল মালিক মো. মনিরের বিরুদ্ধেও গাছ কাটা ও বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা জসিম মাস্টার ও মাসুম বিল্লাহর কথামতো তিনি গাছ কাটার লোক ঠিক করে দিয়েছিলেন। তবে নিজে কোনো গাছ কাটেননি বলে দাবি করেন মনির।

গাছ কাটার শ্রমিক মো. মামুন বলেন, “আমি পারিশ্রমিকে গাছ কাটার কাজ করি। জসিম মাস্টারের নির্দেশে কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটেছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তাঁর সহযোগী মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, কর্তারহাট-রমাগঞ্জ সড়কের পাশের ৪৮টি গাছ ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দরপত্রে পেয়েছেন তাঁরা এবং সেসব গাছই কাটছেন।

সড়কের পাশের গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গাছগুলোর মালিকানা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে এবং এ বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটা হচ্ছে, বিষয়টি তিনি জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছেন।

তবে গাছ কাটার অনুমোদন ও দরপত্রসংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক।

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ রোপণের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ১০ থেকে ১২ দিন আগে সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছ কাটা শেষ হয়েছে, অথচ এখনো প্রকাশ্যে গাছ কাটা চলছে। ইউএনওর ইন্ধন না থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে শত শত গাছ কেটে ফেলা অসম্ভব বলেও দাবি তাঁদের।

তাঁদের প্রশ্ন, দরপত্র ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই গাছ কাটা হয়ে থাকলে এর দায় কার? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছোট-বড় সবাইকে গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করেন। অথচ একজন যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দিনের বেলায় শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৮:০৩   ৫ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●







বরিশাল থেকে আরও...


● কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
● লালমোহনে ৫০ লাখ টাকার গাছ কাটার অভিযোগ, দরপত্রের আগেই উধাও শত শত গাছ
● কঁচা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ
● বেতুয়া–ঢাকা রুটে লঞ্চের রোটেশন প্রথা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
● চরফ্যাসনে স্কুলে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাউকেই পেলেন না ইউএনও



আর্কাইভ