ঢাকা    রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
সালথার পেঁয়াজ চাষিদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠালেন ইউএনও নাজিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে এমপি সুলতানা জেসমিন জুইয়ের মতবিনিয় ভোলা জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সুজানগর হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান লালমোহনে দেবরের মারধরে ভাবি আহত পটুয়াখালীতে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে শিল-পাটার আঘাতে হত্যা, ছেলে আটক পীরগঞ্জে এডিপি প্রকল্প হতে ২০৮ জন পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন কল্যাণমুখী রাজনীতি করে যাবো:ফজলুল হক মিলন এমপি সুজানগরে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা লালমোহনে কলেজছাত্র হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » গভীর নলকূপে উঠছে লবণাক্ত পানি, অচল ৭৭ লাখ টাকার স্যানিটেশন প্রকল্প

গভীর নলকূপে উঠছে লবণাক্ত পানি, অচল ৭৭ লাখ টাকার স্যানিটেশন প্রকল্প


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬


 গভীর নলকূপে উঠছে লবণাক্ত পানি, অচল ৭৭ লাখ টাকার স্যানিটেশন প্রকল্প

পটুয়াখালী: নিরাপদ খাওয়ার পানি পৌঁছে দিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে প্রায় সাড়ে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এক দিনের জন্যও সুপেয় পানি পাননি এলাকাবাসী। বিশুদ্ধ পানির বদলে গভীর নলকূপ থেকে উঠেছে লবণাক্ত পানি। ফলে প্রকল্প এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, তদারকির অভাব এবং পরিকল্পনার ভুলের কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ পানির সংকট দূর করতে প্রায় সাত বছর আগে কালাইয়া আদর্শ গ্রামে গভীর নলকূপ, সাবমারসিবল পাম্প, চারটি ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন ও টয়লেট স্থাপন করা হয়। তবে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উত্তোলনের সময়ই দেখা যায়, বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে লবণাক্ত পানি উঠছে। এরপর প্রকল্পটি আর চালু হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজ শেষ করেই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরে যান। এ বিষয়ে তথ্য জানতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পসংক্রান্ত কোনো ফাইল বর্তমানে অফিসে নেই। ফলে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রকল্পটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয়দের নিয়ে একটি পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কবির হোসেনকে। তার নামেই বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করা হয়। পরে পরীক্ষামূলকভাবে পাম্প চালাতে গিয়ে প্রায় ২৮ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। বিল পরিশোধ না হওয়ায় কবির হোসেনের নামে মামলা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঐ বিল পরিশোধ করেন এবং মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
কবির হোসেন বলেন, ‘এই প্রকল্প আমাদের কোনো কাজে আসেনি। বিশুদ্ধ পানির বদলে লবণ পানি উঠেছে। আমরা কেউ সেই পানি ব্যবহার করিনি। অথচ আমাকে না জানিয়ে কমিটির প্রধান করে আমার নামেই বিদ্যুতের মিটার দেওয়া হয়। পরে বিদ্যুৎ বিলের মামলায় আমাকে হয়রানিও হতে হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই গ্রামের প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবার বিশুদ্ধ পানির অভাবে আছে। একটিমাত্র গভীর নলকূপ ছিল, তাও নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের এতগুলো পরিবারকে অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ পানির ব্যবস্থার জন্য দাবি করেন তিনি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে যোগদানের আগেই প্রকল্পটির কাজ হয়েছে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তার পরও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৬:৫৪   ৬৭ বার পঠিত  |      







বরিশাল থেকে আরও...


নাজিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে এমপি সুলতানা জেসমিন জুইয়ের মতবিনিয়
ভোলা জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন
লালমোহনে দেবরের মারধরে ভাবি আহত
পটুয়াখালীতে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে শিল-পাটার আঘাতে হত্যা, ছেলে আটক
লালমোহনে কলেজছাত্র হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ



আর্কাইভ