ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
শিরোনাম
জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকার দেশকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী এমপিও বঞ্চিত ৪২ বছর, ঈদের আনন্দ নেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষক পরিবারে কৃষিবিদ তুহিনের উদ্যোগে চাটমোহরের সেই ঈদগাহ মাঠের বিরোধ নিষ্পত্তি বাউফলে মাহেন্দ্রট্রলি চালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দুই ডজন ফ্যামিলি কার্ড ও চালসহ আটক জামায়াত নেতা আটক গলাচিপায় অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ সহোদর নিহত ‘কৃষি উন্নয়নে খাল খননের বিকল্প নেই’: নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি কাউখালীতে শিল্পপতি হাজী ওসমান গনির উদ্যোগে সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার পেল ঈদ উপহার জামায়াতের ঈদ উপহার পেল সাতবাড়ীয়ার পাঁচ শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » এমপিও বঞ্চিত ৪২ বছর, ঈদের আনন্দ নেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষক পরিবারে

এমপিও বঞ্চিত ৪২ বছর, ঈদের আনন্দ নেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষক পরিবারে


হারুন উর রশিদ সোহেল,(রংপুর)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


এমপিও বঞ্চিত ৪২ বছর, ঈদের আনন্দ নেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষক পরিবারে
রংপুর: দিন যায় মাস আসে,বছর যায় সরকার বদলায় শুধু বদলায় না বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের ভাগ্য। অবহেলা আর বঞ্চনায় এভাবেই কেটে গেছে ৪২ বছর। এমপিও বঞ্চনা আর অবহেলায় এভাবেই মানবেতর কাটছে হাজার হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের জীবন। রাত পোহালেই আসন্ন ঈদ উল আযহা। ঈদকে ঘিরে যখন চারদিকে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেলেও ব্যতিক্রম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিবারে। তাদের পরিবারে নেই কোন ঈদ আমেজ, নেই কেনাকাটা, নেই কোরবানীর আয়োজন। এই বৈষম্যের শেষ কোথায় এমন প্রশ্ন হাজারোও শিক্ষক পরিবারে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টেশনপ্রাপ্ত এবং সরকারের অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে ১৫১৯টি। অনুদান ভুক্ত মাদ্রাসারা প্রধান শিক্ষক মাসে ৩৫শত টাকা ও সহকারি শিক্ষক ৩৩শত টাকা মাসিক অনুদান পেয়ে থাকেন। এর বাহিরেও প্রায় ৬ হাজারেও বেশি মাদ্রাসা রয়েছে। তারা অনুদান বিহীন। তারা বেতন এমপিও এবং জাতীয় করণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসলেও বিভিন্ন সরকার তাদের আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন। বাস্তব হয়নি কোন ঘোষণা। এর মধ্যে বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার শিক্ষকদের আন্দোলনের মূখে বাধ্য হয়ে অনলাইনে এমপিও আবেদন গ্রহণ করেন। এরপর যাচাই-যাচাই প্রক্রিয়া করা হলেও দীর্ঘ ১০ মাসেও তা আলোর মূখ দেখেনি। এমন পরিস্থিতি গত ৬ দিন ধরে শিক্ষকরা ঢাকায় অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে।
শিক্ষকরা জানান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অনুদানভুক্ত ও অনুদান বিহীন হাজার হাজার শিক্ষক বছরের পর বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাত্র ১৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সামান্য অনুদান পান। বাকিরা অনুদান বিহীন। এই সামান্য অনুদান দিয়ে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা বছরের পর বছর পাঠদান করলেও পাচ্ছেন না নিয়মিত বেতন কিংবা পর্যাপ্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা। ঈদকে ঘিরে যখন চারদিকে আনন্দের আমেজ, তখন বেতন-ভাতা না থাকায় ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব শিক্ষক। তারা অবিলম্বে গত ২৮ জানুয়ারী ২০২৫ সালের এমপি ঘোষণা বাস্তবায়ন দাবি জানান।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মীরের বাড়ি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সোলাইমান আলী জানান, সরকার আর আমলার অবহেলার কারলে দীর্ঘদিন ধরে তারা এমপিও বেতন বঞ্চিত। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা মাসে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা প্রায় তিন হাজার তিনশ টাকা অনুদান পান। যা দিয়ে সংসার চালানো তো দূরের কথা, ঈদের বাজার করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই অবিলম্বে বেতন এমপিও ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হাজীপুর বদরুল উলুম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম ও রংপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খারুয়াবাধা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠ্যদান করাচ্ছে বছরের পর বছর। সরকারি নিয়ম মেনে পাঠ্যদান চলে, সরকার বই দেয়, উপবৃতি দেই, বৃত্তি পরীক্ষা হয়। কিন্তুু শিক্ষকদের বেতন এমপিও হয় না। মাসে সামান্য কিছু অনুদান দেয়া হয়। যা দিয়ে বর্তমানে চলা খুবই কষ্টদায়ক।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক সাহেবুল ইসলাম মজনু মন্ডল জানান, সরকার আসে সরকার যায় শুধু আশ্বাস দিয়ে রাখে আমাদের। কিন্তুু অদৃশ্য কোন শক্তির প্রভাবে এমপিও বেতন হয় না। একারণে ঈদের সময় সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কিনতে পারি না। বর্তমানে শিক্ষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর চাঁদখানা ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানালেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ঈদ বোনাস ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা সেই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন।
জয়পুরহাট জেলার শিক্ষক নেতা ফেরদৌস আলম জানান, আমাদের বেতন-ভাতা না থাকায় আমাদের ঈদ আমাদের জন্য আনন্দ নয়, বরং দুশ্চিন্তার সময়।
কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা কেরামতিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম বলেন, বারবার সরকার আশ্বাস দেয়ার পরও কেন এমপিও বঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা গুলো এটার সুনিদিষ্ট ব্যাখা চাই। আমাদের বর্তমান দাবি হচ্ছে অনলাইনে এমপিও আবেদনকৃত যাচাই বাচাইকৃত অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিও গেজেট প্রদানসহ শূন্য পদের বেতন ভুক্ত করা হোক। এই লক্ষ্যে গত ৬ দিন ধরে ঢাকায় আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছি। আগামীকাল ঈদের দিনও ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঈদ বর্জন কর্মসূচী পালন করবো।

শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কিছু কর্মকতার অবহেলার কারণে তারা এমপিও বঞ্চিত। শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা জানান, তারা প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তারা এখনও অবহেলিত। আসন্ন ঈদে পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ কেন্দ্রীয় মহাসচিব শামসুল আলম জানান, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার পর এমপিও দেয়া হবে মর্মে অনলাইনে এমপিও আবেদন নেয়া হয়, পরে যাচাই বাচাই করা হয়, কিন্তুু তালিকা প্রকাশ বা গেজেট এখনো সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইবাদাৎ হোসেনের সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিগত অর্ন্তবর্তী কালীন সরকার ১০৯০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে এমপিও দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে প্রধান উপদেষ্ঠার দপ্তর থেকে ২৫০টি মাদ্রাসার তালিকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। তবে বর্তমানে এমপিও এবং জাতীয়করণের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষকরা জানান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তারা আন্দোলন-সংগ্রাম কর্মসূচী অব্যাহত রেখেছেন। তাদের আশা বর্তমান সরকার প্রধান একটু সুদৃষ্টি দিলে তাদের মুখে হাঁসি ফুটবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৩:২৭   ৫ বার পঠিত  |         

----





রংপুর থেকে আরও...


এমপিও বঞ্চিত ৪২ বছর, ঈদের আনন্দ নেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষক পরিবারে
পীরগঞ্জে মায়ের মৃত্যুর শোকে ছেলের আত্মহত্যা
আতাঁতে বেহাত বন বিভাগের প্রায় ১০০ একর জমি
পীরগঞ্জে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা
পীরগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা



আর্কাইভ