ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার সরকারি ভূমি হস্তান্তর কর এর ১% প্রায় বরাদ্দের ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাত এর অভিযোগ এনে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নয় সদস্য চেয়ারম্যান এম আর মুজিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। পরিষদের সদস্য মোঃ আহসান হাবীব, সোহেল রানা, মোহাম্মদ ইকবাল ইসলাম, সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুকসানা পারভীন , মোহাম্মদ বশির, মাসুদ মিয়া, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া,মোঃ লিটন মিয়া ও মোঃ হুমায়ুন কবির শাহিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবটি নির্বাহী অফিসারের কাছে দাখিল করেন।
শুক্রবার (১৯/০৬)উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম অনাস্থা প্রস্তাবটি প্রাপ্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।অবশ্য চেয়ারম্যান এম আর মুজিব এ অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন দাবী করে তা অস্বীকার করেছেন।
সুত্র জানায়,শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ হারে প্রদেয় নগদ ৩৫ লাখ টাকার পুরোটা পরিষদের কোনো সদস্যকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান মুজিব বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে পুরো টাকা তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেন। অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে দাখিল করা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নবীনগর শাখার স্টেটমেন্টেও দেখা যায়,২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৯টি কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ উত্তোলন করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের কোনো রেজুলেশন ইউনিয়ন পরিষদে পাস না করেই চেয়ারম্যান এককভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবী করেন ওই নয় সদস্য। তারা বলেন,স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত পরিষদের সভায় রেজুলেশন অনুমোদন এবং সদস্যদের অবহিত করার বিধান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব দেখা গেলেও সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত হাতে আসার পর তারা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
সদস্য লিটন মিয়া বলেন,আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার কাছে কোনো টাকা আসেনি। কিন্তু ব্যাংকের স্টেটমেন্টে দেখা যায়, তিনি ৩৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এম. আর. মুজিব বলেন,সামনে নির্বাচন, আমার জনপ্রিয় ঈর্শ্বানিত হয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা ভিত্তিহীন এই অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনকারীদের সব তথ্যই অসত্য। তিনি জানান, ৩৫ লাখ টাকা নয়, ভূমি হস্তান্তর করের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা হয়ত তোলা হয়েছে এবং সেই প্রকল্পগুলোর কাজও ইতোমধ্যেই সম্পন্নও হয়েছে যার দালিলিক প্রমাণ উপজেলা প্রশাসনের কাছে ও আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনাস্থা প্রস্তাবটি আমার কাছে আসে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আগামী রবিবার কার্য দিবসে প্রস্তাবটি জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে পাঠানো হবে।স্যারের নির্দেশক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন,আমি অনাস্থা প্রস্তাবটি এখনো হাতে পাইনি। প্রস্তাবটি হাতে পেলে তদন্তে এর সত্যতা পেলে অবশ্যই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৭:২৭ ৫০ বার পঠিত | ● আত্মসাত ● টাকা ● নবীনগর ● বরাদ্দ ● সরকারি
----